নৌকা বাইচসহ দেশীয় ঐতিহ্যবাহী উৎসব ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

নৌকা বাইচসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ও লোকজ সংস্কৃতিকে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

​গত ১ নভেম্বর শনিবার বিকেলে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতী নদীতে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ মেলা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

​মন্ত্রী বলেন, “নৌকা বাইচের মতো দেশীয় ঐতিহ্যবাহী উৎসব ও খেলাধুলাকে দেশের মানুষের মধ্যে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।”

​তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার মতো বিভিন্ন ক্ষতিকর আসক্তি থেকে তাদের দূরে রাখতে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকজ উৎসবের আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”

​নদীমাতৃক বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকা বাইচের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ ধরনের ঐতিহ্য আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি।”

​মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মধুমতী নৌকা বাইচ মেলা কমিটির সভাপতি ও মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

​এদিকে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে মধুমতী নদীর দুই তীরে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে নদীপাড়ে মাগুরা ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত এক লাখ নারী, পুরুষ ও শিশুর সমাগম ঘটে। দূর-দূরান্ত থেকেও বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আনন্দঘন আয়োজন উপভোগ করতে আসেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন