বৃহস্পতিবার,৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় লিমা, বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে পাশে দাঁড়ালেন গোমস্তাপুরের ইউএনও

অভাবের কারণে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিবার। তবে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করায় শেষ পর্যন্ত বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল সেই শিক্ষার্থী।
লিমা খাতুন গোমস্তাপুর গার্লস একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি উপজেলার কয়লাদিয়াড় এলাকায়। বাবা লিটন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। দুই মেয়ের সংসারে লিমা বড়, আর ছোট মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে লিমার পড়াশোনা বন্ধ করে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে লিমা তার স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শরিফা খাতুন চৌধুরীর কাছে জানায়, সে বিয়ে করতে চায় না, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়।
পরে প্রধান শিক্ষিকা বিষয়টি গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সির নজরে আনেন। বিষয়টি শুনে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে লিমার শিক্ষার জন্য ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
লিমা খাতুন বলেন, “আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। আমার স্বপ্ন লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। স্যার যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছি।
গোমস্তাপুর গার্লস একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শরিফা খাতুন চৌধুরী বলেন, লিমা একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শুধু আর্থিক সংকটের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাক, সেটা আমরা চাইনি। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানানো হলে তিনি দ্রুত সাড়া দিয়েছেন। এতে শুধু লিমা নয়, অন্য শিক্ষার্থীরাও উৎসাহ পাবে।
লিমার মা বলেন, অভাবের সংসারে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই বিয়ের কথা ভাবতে বাধ্য হয়েছিলাম। ইউএনও স্যার সহযোগিতা করায় এখন মেয়েকে আবার পড়াশোনা করাতে পারব। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন শুধু দারিদ্র্যের কারণে থেমে না যায়, সেটাই আমাদের চেষ্টা। বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ। প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। লিমার মতো যে কোনো শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়লে প্রশাসন তার পাশে থাকবে।
ইউএনওর এই মানবিক উদ্যোগে লিমা ও তার পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছে। স্থানীয়রাও শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনে প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা সাংবিধানিক প্রশিক্ষণ ও গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়

গাজীপুরে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে সাংগঠনিক উন্নয়নসভা