পহেলা বৈশাখে মুকসুদপুরবাসীর জন্য সুখবর: আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি শুরু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর রেলওয়ে স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা বিরতি শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনসমূহ। এ সিদ্ধান্তে আনন্দে ভাসছে পুরো মুকসুদপুরবাসী।
দীর্ঘদিন ধরে এই স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে সেই বহুল প্রত্যাশিত দাবি পূরণ হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
মুকসুদপুরবাসীর এই প্রাণের দাবিকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব সেলিমুজ্জামান সেলিম। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিরলস কাজের ফলেই রেল মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য জনাব সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন,
“মুকসুদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি। নির্বাচনের সময় আমি এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই উদ্যোগ শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, বরং এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।”
১৪ এপ্রিল থেকে ট্রেনগুলোর যাত্রা বিরতি চালু হলে মুকসুদপুর থেকে ঢাকা, খুলনা ও বেনাপোলগামী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে। এতে সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হবে এবং যাত্রীরা পাবেন নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন,
“এতদিন ঢাকা বা খুলনায় যেতে আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। সড়কপথে সময় ও খরচ দুই-ই বেশি লাগত। এখন মুকসুদপুরে ট্রেন থামলে ব্যবসা পরিচালনা অনেক সহজ হবে, বিশেষ করে মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হবে।”
এদিকে, মুকসুদপুরের বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন,
“মুকসুদপুর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন থামবে—এটা আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী হবে। এখন যাতায়াত অনেক বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে। পহেলা বৈশাখে এর চেয়ে বড় উপহার আর কিছু হতে পারে না।”
স্থানীয়দের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মুকসুদপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন