
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করার প্রতিবাদে সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা থেকে ওয়াকআউট করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে দলটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে শুরু হয় বিশেষ কমিটির এই মতবিনিময় সভা। জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সরকারবিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেননি।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দুই প্রতিনিধি সভায় যোগ দিলেও পরে মাঝপথে বেরিয়ে আসেন। দলটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিশেষ কমিটিকে তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সভা থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
হাসনাত কাইয়ুমের ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছে এবং সেই সময়সীমা এখনো শেষ হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষ কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল ‘জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কমিটির মতবিনিময়’। এর আগে দল ও জোটগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে সভায় অংশ নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়।
গত ৪ আগস্ট সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় অংশ নেওয়া দল ও জোটগুলোর প্রতিনিধিদের সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে নিজেদের মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তবে গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলো। পরিষদ গঠন না হওয়ায় সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগে অংশ নিতে তারা আগ্রহী নয়।
এ কারণে সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতেও বিরোধী দলগুলো কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের যেসব শরিক দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই, তারাও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।




