
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার প্রধান বাজার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এবং পৌর শহরের ব্যস্ততম রাস্তার মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ভাসমান ও ফুটপাতের খাবার দোকান। ধুলোবালি, মাছি ও যানবাহনের ধোঁয়ার মধ্যে খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া এসব খাবার অনায়াসে গিলে খাচ্ছে সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিশুরা। মুখরোচক ও লোভনীয় হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব খাবার কিনলেও তা ডেকে আনছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোরহানউদ্দিনের জনবহুল এলাকাগুলোতে ভ্যানগাড়ি ও ছোট ছোট টং দোকানে চপ, পেঁয়াজু, সিংগারা, ফুচকা, চটপটিসহ বিভিন্ন ভাজাপোড়া ও খোলা খাবার দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে খোলা বাতাসে উন্মুক্ত রাখা এসব খাবারে রাস্তার ধুলোবালি ও জীবাণু অনায়াসে মিশে যাচ্ছে। এছাড়া একই তেল বারবার ব্যবহার করে এসব ভাজাপোড়া তৈরি করায় খাবারের বিষাক্ততা আরও বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তাঘাটের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অপরিচ্ছন্নভাবে তৈরি খোলা খাবার খাওয়ার ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, আমাশয়, বমি ও ফুড পয়জনিংয়ের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা এসব আকর্ষনীয় ও লোভনীয় খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি পেটের সমস্যায় ভুগছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই এমন অস্বাস্থ্যকর খাবারের পসরা বসায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবনের স্বার্থে ভাসমান এসব খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
ভোক্তাসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ফুটপাতের এসব ভাসমান দোকানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন বোরহানউদ্দিনের সাধারণ মানুষ।




