
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একসময় খেলাধুলা ও ক্রীড়া চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিলো পাইলট স্কুলের খেলার মাঠ টি, প্রতিদিন বিকেলে শত শত ছেলে মেয়েরা মাঠে খেলাধুলা করতো, সেই খোলা খেলার মাঠ এখন স্টেডিয়ামে হয়েছে, মাঠ উন্নয়ন হলেও মাঠে খেলার প্লেয়ার নেই। স্টেডিয়ামটি এখন যেন অযত্ন-অবহেলার প্রতিচ্ছবি। চারপাশে লতা-পাতা, আগাছা ও ঘাসে ঢেকে গেছে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশ। গ্যালারিগুলো পড়ে থাকলেও নিয়মিত খেলোয়াড় ও দর্শকদের আনাগোনা নেই। ফলে ক্রীড়া প্রেমীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।
ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ৷ বিদ্যালয়সংলগ্ন এই স্টেডিয়ামকে ঘিরে একসময় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের ছিল নানা স্বপ্ন। মাঠে খেলোয়াড়দের দৌড়ঝাঁপ,। রাষ্ট্রীয় অনুদানে মাঠ উন্নয়ন হয়ে গ্যালারিতে পরিণত হলেও দর্শকদের উপস্থিতি আর আগের মত নেই বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুখর থাকত পুরো এলাকা। অনেকের প্রত্যাশা ছিল, এখান থেকেই তৈরি হবে ভবিষ্যতের প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যারা একদিন জাতীয় পর্যায়ে ভাঙ্গার প্রতিনিধিত্ব করবে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ভাঙ্গা উপজেলা স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রজ্ঞাপনে স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে ‘ডা. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়াম’ করা হয়। তবে বর্তমানে স্টেডিয়ামের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাদের প্রশ্ন—শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমে গেছে, নাকি স্টেডিয়ামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে?
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের গ্যালারি ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে লতাপাতা ও আগাছা বেড়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের চিত্রও চোখে পড়ে। বিশাল অবকাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও নেই আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর স্টেডিয়াম এলাকায় তরুণদের আড্ডা বসে। সন্ধ্যার পরে অনেক সময় মাদক সেবীদের দেখা যায় অথচ নিয়মিত খেলাধুলা, প্রশিক্ষণ কিংবা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে জায়গাটিকে ব্যস্ত রাখার উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ক্রীড়া স্থাপনা যদি নিয়মিত ব্যবহারের অভাবে লতা- পাতা ও আগাছায় ঢেকে যায়, তাহলে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার? তাদের মতে, ভাঙ্গার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শহরে এমন একটি স্টেডিয়াম থাকা বড় সুযোগ। কিন্তু সেটি যদি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা না যায়, তাহলে নতুন প্রজন্ম খেলাধুলা থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারে।
ক্রীড়াপ্রেমীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত স্টেডিয়াম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফুটবল-ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভাঙ্গার এই বহুকাঙ্ক্ষিত স্টেডিয়াম আবারও খেলোয়াড়দের পদচারণায় মুখর হবে, গ্যালারি ভরে উঠবে দর্শকে এবং ফিরে আসবে হারানো ক্রীড়ার প্রাণচাঞ্চল্য।





