মতলব উত্তরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবন বিপর্যস্ত

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বরাদ্দ পাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাধারণ জীবনযাত্রায় চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে।

​উপজেলা বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। এই বিশাল ঘাটতির কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে বাধ্য হয়েই এলাকাভেদে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

​বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে অটো রাইস মিল, স’মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা এবং ফ্রিজ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম লাটে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অথচ মাস শেষে গুণতে হচ্ছে মোটা অংকের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন। অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন।

​তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাতে পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। ফ্রিজে থাকা পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং পানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটর চালিয়ে কাজ করতে গিয়ে সেবার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

​পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় তাদের হাতে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। বরাদ্দ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তারা গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে দ্রুত এই বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃষি ও ব্যবসা সমৃদ্ধ এই এলাকায় বিদ্যুতের বরাদ্দ বাড়ানো না হলে অর্থনৈতিকভাবে এই অঞ্চল পিছিয়ে পড়বে।

​বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে স্থানীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষোভ সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন