অভাব-অনটনে বেড়ে ওঠা এক গ্রামের সাধারণ যুবক—যার দিন কাটতো গরু চরানো, কৃষিকাজ আর মানুষের বাড়িতে কাজ করে—সেই আজিজ উল্লাহ্ এখন অভিযোগের তীরবিদ্ধ এক বিতর্কিত নাম। লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছে তার নাম, বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভূমধ্যসাগর ট্রাজেডির পর।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের মন্তাজ মিয়ার ছেলে আজিজ উল্লাহ্ (যিনি আব্দুল আজিজ নামেও পরিচিত)। বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই ব্যক্তি গরু রাখাল ও দিনমজুর হিসেবেই জীবনের শুরু করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতাও খুব বেশি নয়।
প্রায় এক দশক আগে অর্থ উপার্জনের আশায় দার-দেনা করে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। শুরুতে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে অভিযোগ রয়েছে, ধীরে ধীরে তিনি মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং একসময় নিজেই একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
এই চক্রের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়া হয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন উত্তাল ভূমধ্যসাগরে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ১২ যুবকসহ মোট ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বারবার উঠে আসছে আজিজ উল্লাহর নাম, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইতোমধ্যে তার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। বিভিন্ন মহল থেকে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তার মাধ্যমেই বহু তরুণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজ মাঝেমধ্যে দেশে এলেও নিজ গ্রামে খুব একটা অবস্থান করেন না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিলেট শহরে কিছুদিন গোপনে অবস্থান করে আবার বিদেশে ফিরে যান। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তার স্ত্রী ও সন্তানদেরও তিনি লিবিয়ায় নিয়ে গেছেন।
এদিকে, গ্রামের বাড়িতে তার ভিটে থাকলেও বর্তমানে কোনো ঘরবাড়ির অস্তিত্ব নেই। বাড়িতে তার ভাই ও চাচারা বসবাস করলেও তাদের সঙ্গে আজিজের নিয়মিত যোগাযোগ নেই বলে জানা গেছে। স্বজনরাও তার বর্তমান কার্যকলাপ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
কে এই আজিজ উল্লাহ—এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ভূমধ্যসাগর ট্রাজেডিতে তার নাম উঠে আসায় বিষয়টি এখন গভীরভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।




