
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিসস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন ও সমন্বয়) কাজী মোঃ ফিরোজ হাসান প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সমাপ্ত না করেই প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি কাগজে কলমে ১০০% দেখিয়ে কমপক্ষে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের তথ্যাদি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, প্রকল্পে মোট ২০,০০০ টি সমাধিস্থল সংরক্ষনের কথা থাকলেও মাত্র ৪৩৭১ টি সমাধি নিয়ে প্রকল্পের সমাপ্তি দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকল্পের সংশোধিত মোট প্রাক্কলন ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮১ কোটি ৭৩ লাখ ১ হাজার টাকা।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে জানা যায় যে, বাস্তবিক ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের এই টাকার সিংগভাগই হরিলুট করেছে এই প্রকৌশলী ফিরোজ। মুক্তিযোদ্ধাদের কবর যথাযথ ভাবে চিহ্নিত না করে কোনো রকমে হাতে গনা ১০০০-১২০০ কবরে কাজ করে কাগজে কলমে ভূতুরে ৪৩৭১ টি সমাধি সংরক্ষন বাবদ ৮১ কোটি ৭৩ লাখ ১ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে এই অর্থের বেশিরভাগ আত্নসাত করেছে গণপূর্তের এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কাজী ফিরোজ হাসান। এই প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন বারংবার মুক্তিযোদ্ধা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়ার পরেও ফিরোজের অবহেলা ও দূর্নীতি ঢাকতে তা এখনো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই বাছাই করলেই এবং অধিকতর তদন্ত করলেই ইহার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
চাকরি জীবনের পুরোটাই ঢাকায় পোস্টিং প্রকৌশলী ফিরোজেরঃ
ফিরোজ হাসানের পিডিএস ফাইল থেকে জানা যায়, সে সারাজীবন ঘুরে ফিরে ঢাকায় চাকরি করেছে। তার চাকরী জীবনের ১৭-১৮ বছরই তিনি গণপূর্ত ভবনের এক উইং থেকে আরেক উইংয়ে কাটিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রকৌশলী ফিরোজ ঘুরে ফিরে গণপূর্তের পেকু উইংয়ে পোস্টিং বাগিয়ে নিয়ে গণপূর্তের অনেক বড় বড় প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করে ঘুষ বাবদ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কার বা কিসের খুঁটির জোরে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের পুরোটায় প্রকৌশলী ফিরোজ ঢাকায় একই কর্মস্থলে পোস্টিং নিয়ে বহাল তবিয়তে ছিলো এটা সর্ব মহলে সবার মাঝে কানাঘুষা করতে শোনা যায়। বিগত ইন্টেরিম সরকারের আমলে জামাতি লবিস্টদের মাধ্যমে প্রকৌশলী ফিরোজ পদন্নোতি নিয়ে গণপূর্তের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন ও সমন্বয়) পদটি বাগিয়ে নিয়েছে।
বদলী ও পোস্টিং বানিজ্যের মূলহোতা প্রকৌশলী ফিরোজঃ
গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলী ও পোস্টিং বানিজ্য নিয়ে সারাদেশে আলোচনা সমালোচনা বিগত কয়েক বছর ধরেই সবারই জানা। পদাধিকার বলে গণপূর্তের পোস্টিং ও বদলীর মূল দায়িত্ব হলো অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন ও সমন্বয়) কাজী ফিরোজের হাতে। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীকে টাকার বিনিময়ে প্রকৌশলী ফিরোজ ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জায়গায় পদায়ন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তা বাতিল করতে বাধ্য হয় এই প্রকৌশলী ফিরোজ। ফিরোজের সহযোগী হিসেবে কাজ করে এই অধিদপ্তরের কয়েকজন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। সম্প্রতি ফিরোজ সহ এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে মন্ত্রণালয়কে খুশি করার জন্য লটারি করে স্বচ্ছতা আনয়নের পরামর্শ প্রদান করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রকৌশলী জানান যে, নিজেদের ইমেজ রক্ষার জন্য স্বচ্ছতার নামে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে ভুল বুঝিয়ে কাজী ফিরোজ গং গণপূর্তকে ঠেলে দিচ্ছে এক অতল গহ্বরে। যেখানে একটা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বদলী ও পদায়ন নীতিমালা রয়েছে সেখানে কোনো রকম বাদ বিচার ছাড়া গণহারে নীতিমালা লংঘন করে লটারি করার বুদ্ধি দিয়েছে এই ফিরোজ গং। গণপূর্ত অধিদপ্তর সরকারের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা একটি টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। একটি চলমান কাজের সকল প্রকৌশলীকে একসাথে লটারি করে বদলীর আত্মগাতী সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজকেই স্থবির করবে না বরং এই দেশকেও কয়েক বছর পিছিয়ে দিতে পারে। পুরাতন প্রকৌশলীদের ২-১ জনকে বদলী করে সেখানে নতুন ২-১ জনকে পদায়ন করলে পুরাতনদের সংস্পর্শে নতুনের কাজ বুঝে নিয়ে উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়। একটি প্রকল্পের বাস্তবায়নের পথে অনেক সমস্যা, সম্ভাবনা ও তথ্যের আদান প্রদানের প্রয়োজন হয়। একই জায়গার সকল প্রকৌশলীকে একযোগে বদলী করলে প্রকল্পের কাজের গতি শুধু ব্যাহত হয়না দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্পের সুযোগ থেকে রাষ্ট্র ও জনগন বঞ্জিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রকোশলী ফিরোজদের মতো এমন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারনে আজকে সরকারের উন্নয়ন কাজের সাথে জড়িত একটি অধিদপ্তর অন্ধকারে নিমজ্জিত। অবিলম্বে এই দূর্নীতিবাজ ফিরোজের বিরুদ্ধে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কয়েকজন প্রকৌশলী জোরালো দাবী জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিষয়ে প্রকৌশলী ফিরোজের দাপ্তরিক মোবাইল নাম্বারে (০১৭১১৪৬৯৪৯২) বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।




