লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল, সংশোধনের পর নেমে এল ১ হাজার ২৩৮ টাকায়

নোয়াখালীর চাটখিলে শহীদুল ইসলাম রনি নামে এক পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহকের সেপ্টেম্বর মাসের বিল আসে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। ঘরে কয়েকটি বাতি-ফ্যান আর ফ্রিজ চালিয়ে এমন বিল আসায় হতবাক হয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিদ্যুৎ বিলটি সংশোধন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংশোধিত হিসাবে ওই মাসের বিল দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৮ টাকা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমান গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে সংশোধিত বিলের কপি পৌঁছে দেন। এ সময় অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

এ ঘটনায় বিলিং সহকারী মমতাজ বেগমকে চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ‘ভুতুড়ে বিল’-এর ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে প্রধান করা হয়েছে সমিতির সেনবাগ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মিনারুল ইসলামকে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে। ওই বাড়ির মৃত আবু তাহেরের নামে থাকা বিদ্যুৎ মিটারটি ব্যবহার করেন তার নাতি শহীদুল ইসলাম।

সমিতির দেওয়া বিলে সেপ্টেম্বর মাসে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা উল্লেখ করা হয়। অথচ এর আগের মাস আগস্টে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৩২৬ টাকা।

শহীদুল ইসলাম জানান, তার ঘরে কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ ও আইপিএস চালানোর জন্য বিদ্যুতের ব্যবহার করা হয়। এর বাইরে ভারী কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তাঁর ঘরে নেই। আগের পাঁচ মাসে গড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ১৮৭ ইউনিট। কিন্তু সেপ্টেম্বরে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ইউনিট। পল্লী বিদ্যুতের বিল প্রস্তুতে নিয়োজিত কর্মীদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীন আচরণের কারণে এমন ভুতুড়ে বিল তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংশোধিত বিল

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মকবুল আহমদ বলেন, মিটারের রিডিং যথাযথভাবেই নেওয়া হয়েছিল। তবে সঠিক রিডিং নেওয়ার পরও কীভাবে এত বড় অঙ্কের ভুল বিল তৈরি হলো, তা তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ভুল বিলের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান তাকে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। চেয়ারম্যানের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট বিলিং সহকারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

মহেশপুরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সুধী জন দের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের মতবিনিময় সভা

ঝিনাইদহের মহেশপুর ডাকবাংলোয় আজ বেলা ১২টায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও

অর্থ আত্নসাত ও ন্যায় বিচারের দাবীতে নাগরপুরে ফারজানা, শারমিন, ফারুক ও শান্তা বেগমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

প্রজেক্টে নামে অর্থ আত্নসাত ও ন্যায় বিচারের দাবীতে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে