সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যু: চমেক হাসপাতালে ১০ মাসের শিশু, মিলছে না স্বজনদের খোঁজ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ১০ মাস বয়সী এক শিশু মারাত্মক আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও শিশুটির কোনো স্বজন বা পরিচয়ের সন্ধান মেলেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা (রয়েল সিমেন্ট গেট) এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা নেত্রকোনাগামী ‘শাপলা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের কুমিরা এলাকায় পৌঁছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে।
​বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর কাজ চলায় রাতের গরমে ও অস্বস্তিতে অধিকাংশ যাত্রী বাস থেকে নেমে সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সে সময় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি কন্টেইনারবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের যাত্রীদের সজোরে ধাক্কা দেয় ও চাপা দেয়।
​লরির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ও পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নারী ও শিশুসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত আরও ৭-৮ জন যাত্রী।
​নিহতদের মধ্যেই ছিলেন ওই ১০ মাসের শিশুর মা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লরির ইম্প্যাক্টে মা ঘটনাস্থলেই মারা যান, তবে কোল থেকে ছিটকে পড়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় ছোট্ট শিশুটি। উদ্ধারকারীরা দ্রুত রক্তাপ্লুত শিশুটিকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
​বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
​তবে ঘটনার পর থেকে শিশুটির পরিচয় কিংবা তার কোনো নিকটাত্মীয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের নার্স ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা শিশুটির পরিচর্যা করছেন।
​পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য:
​বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক লরিটি ও বিকল বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে লরির চালক ও হেলপার ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায়।
​হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আমরা নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। বিশেষ করে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির স্বজনদের খুঁজে বের করতে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমেও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লরি চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
​শিশুটির পরিচয় বা তার স্বজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ থানা অথবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে দামুড়হুদা উপজেলায় সরকারি অনুমোদনহীন ও পরিবেশ দূষণ কারী অবৈধ ইট ভাটা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হলো

চুয়াডাঙ্গা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছেন জেলা প্রশাসন

পটুয়াখালীর বৃহৎ মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুর দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে মাছ ধরা

দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নদী