প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দ্বাদশ শ্রেণী পাস করেছে কিন্তু তার শিক্ষার মান হচ্ছে সপ্তম শ্রেণীর পর্যায়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী না পারে পড়তে, না পারে গুনতে, প্রায় ৫১ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী পড়তে পারে না। যুব সমাজের ৪০ শতাংশ না আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, না আছে কর্মসংস্থানে, না আছে প্রশিক্ষণে তার মধ্যে আবার ৬০ শতাংশ নারী।
শনিবার দুপুরের রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এডিপি (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে স্কুল বেঞ্চ, লাইট, ফ্যান, ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র ও স্যানেটারি ন্যাপকিন সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরো বলেন, পতিত সরকার শিক্ষাকে পঙ্গু করেছে, আমরা যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারি সেজন্য এই যুব সমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে যেমন অর্থ লুট করেছে অন্যদিকে যাতে ভবিষ্যতের বংশধর গড়ে না উঠতে পারে সেজন্য শিক্ষাকে সবচেয়ে অবহেলিত খাদ হিসাবে পতিত সরকার রেখেগেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লুট করার উদ্দেশ্যে সেখানে কিছু বিল্ডিং তৈরি করেছে। যে বাংলাদেশের মাধ্যমে আপনি সামনের দিকে অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করবেন, সেটাকে সমূলে উৎপাদিত করা কোন রাষ্ট্রের তাবেদারী করার জন্য এ কাজ করা হয়েছে। যার কারণে পতিত সরকার সে তার স্থানে নেই পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, একটা ভয়ের সংস্কৃতি চালু হয়েছে যে আমরা কেন শিক্ষায় হাত দিচ্ছি, মানুষকে তো মুক্ত করতে হবে, মানুষকে স্বাধীন করতে হবে, মানুষের অধিকারের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে, মানুষকে নিজের পায়ে সম্মানসহ দাঁড়াতে হবে এই কাজটা কেবল শিক্ষাই করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে যদি বাংলাদেশ গড়তে হয় তাহলে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ করতে হবে, সবার জন্য বাংলাদেশ গড়তে হবে, সেটা করতে যেমন এক দিকে দক্ষ জনশক্তি লাগবে, সুস্বাস্থ্যের জনশক্তি লাগবে, পুষ্টিকর জনশক্তি লাগবে, অধিকাংশ মানুষের অংশগ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ সমতাভিত্তিক সমাজ যদি গড়ে তুলতে হয় তাহলে সেখানে আমাদের শিক্ষায় অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজবাড়ী -২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রিফাতুল হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও ক্রিড়া সামগ্রী বিতরণ করেন।




