নাটোরে হত্যাচেষ্ঠা মামলার আসামী প্রথম শ্রেণির ছাত্র

নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে  হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  গতকাল রোববার দুপুরে শিশুটি নাটোরে শিশু আদালতে জামিন নিতে এলে ঘটনাটি জানাজানি হয়| বিচারক তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং বাদীকে আদালতে তলব করেছেন|
সেই শিশুটির বাড়ি গুরুদাসপুরের  ধারাবারিষা ইউনিয়নে। শিশুটি স্হানীয়  একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ছাত্র।  মামলায় শিশুর বয়স ২১ বছর দেখানো হয়েছে। কিন্তু  জন্ম সনদ অনুযায়ী শিশুটির প্রকৃত বয়স ৭ বছর|
আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পোশাক পরে একটি শিশু আজ দুপুরে গুরুদাসপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হিসেবে শিশু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে| আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আসামির বয়স সম্পর্কে তার আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন|
আইনজীবীর দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র পরীক্ষা করে বিচারক আসামির বয়স সাত বছর সাত মাস দুই দিন নির্ধারণ করেন| গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিবন্ধিত প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) শিশুটির বয়স ২১ বছর লেখা থাকা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন| শিশুটির পক্ষে কাউকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা করার অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন| পরে তিনি শিশুটিকে ৫০০ টাকা জামানতে  জামিন মঞ্জুর করেন| একই সঙ্গে মামলার বাদী শাহানুর রহমানকে আগামী ধার্য তারিখে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করেন|
আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম উদ্দীন প্রামাণিক বলেন, বাদী আক্রোশবশত শিশুটির বয়স ২১ বছর দেখিয়ে এজাহার করেছেন| জন্মনিবন্ধন অনুসারে তার বয়স সাত বছর সাত মাস দুই দিন| এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন এবং বাদীকে আদালতে তলব করেছেন|
শিশুর বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে মামলার কথিত ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানে না| সে ঘটনার সময় (৯ এপ্রিল) স্কুলের ক্লাসে ছিল| ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছেন|’ তিনি এ ঘটনায় বাদীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি|
এ ব্যাপারে মামলার বাদী শাহানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা অনুমান করে ২১ বছর লিখেছিলাম| তবে ১৫ বছর তো হবেই| আমার ছেলেকে মারা হয়েছে| সে যার যার নাম বলেছে, তাদের আসামি করা হয়েছে|
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, ‘৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের মাঠে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনা নিয়ে মামলাটির উদ্ভব হয়েছে| এতে সাত বছরের শিশুকে আসামি করার বিষয়টি আমার জানা ছিল না| বাদী তাঁর বয়স ২১ বছর লেখার কারণে বিভ্রান্তি হয়েছে| বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে|*

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন