সিলেটে জালালাবাদ থানা পুলিশের অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলন চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার জব্দ দুই বাল্কহেড ও ১৬১৫ ফুট বালু

সিলেটের জালালাবাদ এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ২টি বাল্কহেডসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ঘনফুট ভেজা বালু। এ ঘটনায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জালালাবাদ থানাধীন বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরের দিকে বাল্কহেড ব্যবহার করে চেঙ্গেরখাল নদী এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙন, পরিবেশ বিপর্যয় ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (১৭ মে) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে জালালাবাদ থানার এসআই (নিঃ) মো. আশরাফুল আলম টিপুর নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স জালালাবাদ থানাধীন ১নং জালালাবাদ ইউনিয়নের আলীনগর পূর্বপাড়া এলাকার চেঙ্গেরখাল নদীর তীরবর্তী স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ৯ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ২টি স্টিলের বাল্কহেড জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ ঘনফুট ভেজা বালু। অভিযান চলাকালে নদীতে থাকা অন্যান্য শ্রমিক ও সহযোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যায় বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রতিদিন শত শত ঘনফুট বালু বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হলেও কার্যকর নজরদারির অভাবে চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে কয়েকগুণ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
মো. ওমর বিশ্বাস (২৫), পিতা-বাবুল বিশ্বাস,
মো. মুনসুর মিয়া (৩০), পিতা-মৃত দুলাল মিয়া,
রতন বিশ্বাস (২০), পিতা-শান্ত বিশ্বাস,
শুকলাল বিশ্বাস (১৯), পিতা-মৃত নন্দ বিশ্বাস,
শরীফ মিয়া (১৯), পিতা-আলী হোসেন মিয়া।
তাদের সকলের বাড়ি গোয়াইনঘাট উপজেলার চৌধুরীকান্দি এলাকায়।

এছাড়া গ্রেফতার হওয়া অন্যরা হলেন—
মো. তানভীর হোসাইন শুভ ওরফে শামিম (১৯), পিতা-ফরিদ গাজী এবং
মো. দিলদার হোসাইন (২৭), পিতা-আব্দুল খালেক।
তাদের বাড়ি জালালাবাদ থানার চামাউরাকান্দি এলাকায়।

অপর দুইজন হলেন—
রাসেল আহমদ (২২), পিতা-মৃত তৈয়ব আলী এবং
মনোয়ার হোসেন (২৫), পিতা-তৈয়ব আলী।
তাদের বাড়ি জালালাবাদ থানার নীলগাঁও এলাকায়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৯ জনসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে জালালাবাদ থানায় মামলা নং-০৯, তারিখ ১৭/০৫/২০২৬ খ্রি. দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২০১০ সালের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-এর ১৫(১) ধারা এবং পেনাল কোডের ৪৩১ ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে।

জালালাবাদ থানা পুলিশ আরও জানায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

এদিকে অভিযানের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে নদী ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি অবৈধভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তারা।

 

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন