নাসিরনগরে এসএসসির ফলে সাফল্য-ব্যর্থতার বৈপরীত্য, জিপিএ-৫-এ আশুতোষ পাইলটের চমক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে একদিকে যেমন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখা গেছে, অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
উপজেলার ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফলে সর্বোচ্চ পাসের হার ৯১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে বড়নগর উচ্চ বিদ্যালয়। বিপরীতে উপজেলার সর্বনিম্ন পাসের হার ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা শ্রীঘর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, নাসিরনগর উপজেলার এসএসসি পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার ৬৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। সে হিসাবে বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলের চেয়ে নাসিরনগর উপজেলা প্রায় ১ দশমিক ৯৪ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে।
তবে সামগ্রিক ফলাফল সন্তোষজনক হলেও প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলের ব্যবধান ব্যাপক। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাসের হারের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৬৮ দশমিক ৭২ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে এমন বড় ব্যবধান শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষকতার মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও একাডেমিক তদারকি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
পাসের হারে শীর্ষে বড়নগর
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড়ুনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
এরপর রয়েছে হরিণবেড় শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। ভলাকুট ক্ষেত্রনাথ বিশ্বাস উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৮৪ দশমিক ২১ শতাংশ।
এ ছাড়া জেঠাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, কুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গোর্কণ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বিজয়লক্ষ্মী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৬ দশমিক ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
জিপিএ-৫-এ আশুতোষ পাইলটের আধিপত্য
পাসের হারে শীর্ষে না থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা পেয়েছে ২৭টি জিপিএ-৫।
এর পরের অবস্থানে রয়েছে ভলাকুট ক্ষেত্রনাথ বিশ্বাস উচ্চ বিদ্যালয়, গোর্কণ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চাতলপাড় ওয়াজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়—প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে ৫টি করে জিপিএ-৫।
গুনিয়াউক উচ্চ বিদ্যালয় ও ফান্দাউক পণ্ডিতরাম উচ্চ বিদ্যালয়ে রয়েছে ৩টি করে জিপিএ-৫। হরিণবেড় শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয় ও কুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয় পেয়েছে ২টি করে জিপিএ-৫।
কম ফলাফলে উদ্বেগ
ফলাফল বিশ্লেষণে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে শ্রীঘর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ জন। পাসের হার ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
এ ছাড়া ধরমন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় ও সৈয়দ কামরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ করে। নাসিরনগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ফান্দাউক পণ্ডিতরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অকৃতকার্য হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আলাদাভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
প্রতিষ্ঠানভেদে কেন এত পার্থক্য?
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, একই উপজেলার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলাফলের এত বড় ব্যবধানের পেছনে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক সংকট, পাঠদানের পরিবেশ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ধরনে পার্থক্য থাকতে পারে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও ড্রপআউট মুক্ত উপজেলা গঠনে রামপালে সাংবাদিকদের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর

বাগেরহাটের রামপালে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ এবং স্কুল ড্রপআউট (ঝরে পড়া) মুক্ত