মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসায় পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করলেন ছোট ছেলে, অনন্য এক ত্যাগের দৃষ্টান্ত

​চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাঈম হোসেন রাহাত নামের এক যুবক তাঁর অসুস্থ মায়ের জটিল ও ব্যয়বহুল ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ মেটাতে পিতা থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন। জীবনের অন্য সবকিছুর উর্ধ্বে মাকে স্থান দিয়ে সন্তান হিসেবে সমাজে এক অনন্য ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

সম্পত্তি বিক্রি ও চিকিৎসার দায়

ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের বিপুল ব্যয় সামলাতে দীর্ঘদিন ধরে ঋণগ্রস্ত ও চিন্তিত ছিলেন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম। পূর্বে জমে থাকা ঋণের কিছু অংশ পরিশোধ এবং মায়ের চিকিৎসা কার্যক্রম অবিরাম চালিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে পিতা থেকে প্রাপ্ত নিজের ভাগের সমস্ত ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নাঈমের ভাষ্যমতে, মায়ের জীবন বাঁচানোর চেষ্টার কাছে এই সম্পত্তি বিক্রি কোনো বড় ত্যাগই নয়; মায়ের সেবায় নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে পারাটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

পারিবারিক অনীহা ও নাঈমের একক দায়িত্ব

তিন ভাইয়ের মধ্যে নাঈম সবার ছোট। পিতা থেকে প্রাপ্ত ওয়ারিশি সম্পত্তি তিন ভাই সমানভাবে বণ্টন করে নিলেও মায়ের দূরারোগ্য ব্যাধির কথা জানার পর অপর দুই ভাই চিকিৎসার আর্থিক দায়ভার নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নিজেদের সংসার ও ভবিষ্যতের অজুহাত দিয়ে অপর দুই ভাই পিছিয়ে গেলেও নাঈম কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ প্রকাশ না করে এককভাবে মায়ের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।

মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত

আজকের এই ব্যস্ত ও স্বার্থপরতার যুগে নাঈমের এমন অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত সমাজের বুকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—দুনিয়ার সব পার্থিব সম্পদের চেয়ে মায়ের স্থান কতটা উর্ধ্বে। মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও পরম দায়িত্ববোধ কেবল মুখে প্রকাশের বিষয় নয়, বরং তা কাজে প্রমাণ করার বিষয়—নাঈম হোসেন রাহাতের এই ত্যাগ যেন সেই চিরন্তন সত্যটিকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।

সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা ও দোয়ার আকুল আবেদন

সম্পত্তি বিক্রির এই অর্থ দিয়ে চিকিৎসার পুরো ব্যয় হয়তো শেষ পর্যন্ত মেটানো সম্ভব নাও হতে পারে, তা জেনেও মন থেকে ভেঙে পড়েননি নাঈম। নিজস্ব সামর্থ্যের শেষবিন্দু দিয়ে মায়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকার এই যুবক। পরম করুণাময় আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে তিনি দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর মায়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন