মঙ্গলবার,১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানকে খন্ডিত করে তেল সম্পদ লুটে নিতেই এই যুদ্ধ: বাঘাই

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংহতি ও কঠোর প্রতিরোধের বার্তা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘হস্তক্ষেপমূলক’ মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এ দেশের জনগণ, অন্য কোনো বিদেশি শক্তি নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানকে খন্ডিত করার পাশাপাশি তেলের মজুদ হাতিয়ে নিতেই এই যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানের ওপর হামলা শুরু করে, তখন তেহরান পূর্ণ উদ্যমে কূটনৈতিক আলোচনায় নিয়োজিত ছিল। তিনি বলেন, আমরা যখন কূটনৈতিক সংলাপে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তারা আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। তারা আলোচনার পথকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বাঘাইয়ের মতে, এই হামলা সব আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দাবি করেন, এই যুদ্ধের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের মূল নকশা হলো ইরানের তেল সম্পদ দখল করা। তিনি বলেন, শত্রুদের লক্ষ্য অত্যন্ত পরিষ্কার, তারা আমাদের দেশভাগ করতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের তেল সম্পদ অবৈধভাবে কবজা করা। তারা আমাদের সার্বভৌমত্ব হরণ করে মানবিকতাকে ভুলুণ্ঠিত করতে চায়।

আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের বিষয়ে বাঘাই বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে তিনি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, যদি কোনো দেশের ভূখণ্ড ইরানকে আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে ইরানের ‘আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার’ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের এই আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপকে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতি শত্রুতা হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে ইরানি গোলাবর্ষণের খবরকে নাকচ করে দিয়ে মুখপাত্র বলেন, ইরান থেকে এসব দেশে কোনো হামলা চালানো হয়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শত্রুপক্ষ হয়তো আমাদের সাথে প্রতিবেশীদের দূরত্ব তৈরি করতে নিজেরাই এসব হামলা সাজিয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাঘাই সরাসরি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আলোচনা সম্পূর্ণ ‘অপ্রাসঙ্গিক’। তার মতে, যখন সামরিক সংঘাত পুরোদমে চলছে, তখন মাতৃভূমি রক্ষা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সময় এটি নয়। এটি আমাদের পছন্দের যুদ্ধ নয়; এটি একটি প্রয়োজনীয় যুদ্ধ যা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে এবং আগামীতে যাবে।

বাঘাইয়ের এই সংবাদ সম্মেলন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং তারা কেবল সামরিকভাবে নয়, বরং রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবেও এই লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন