
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং সারের ডিলারশিপ বণ্টন কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল। বিভিন্ন স্থান থেকে নাম-বেনামে সারের ডিলারশিপ বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ ওঠার মুখে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন।
সম্প্রতি উপজেলা ও স্থানীয় রাজনীতিতে গুঞ্জন ওঠে যে, ডিলারশিপের সুফল মূলত উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের হাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন—তার নামে যদি কোনো সারের ডিলারশিপ বরাদ্দ এসে থাকে, তবে তিনি তা নিজের কাছে না রেখে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে সুষমভাবে বণ্টন করে দেবেন।
কথা অনুযায়ী কাজ করে তিনি জাহানপুর ইউনিয়নের জন্য প্রাপ্ত সারের ডিলারশিপটি সম্পূর্ণভাবে জাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের নিকট বুঝিয়ে দেন।
তৃণমূলের উচ্ছ্বাস ও প্রতিক্রিয়া
হাজী রাসেলের এমন পদক্ষেপে জাহানপুর ইউনিয়নসহ পুরো চরফ্যাশন উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
জাহানপুর ইউনিয়নের একাধিক প্রবীণ ও ত্যাগী বিএনপি নেতা জানান,
”ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ মূলত ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দেরই প্রাপ্য। জাহিদুল ইসলাম রাসেল ভাই যে উদারতা ও রাজনৈতিক পরিপক্কতা দেখিয়েছেন, তাতে আমরা অভিভূত। এই একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের হৃদয়ে আলাদা স্থান করে নিয়েছেন।”
”এটি নেতাকর্মীদের হক, বিতর্ক এড়ানোই মূল লক্ষ্য”
এ বিষয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন,
”এখানে উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ মূলত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নেতাকর্মীদেরই হক। তাদের হক তাদের হাতে তুলে দিয়ে আমি কেবল দায়িত্ব পালন করেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, একটি বিশেষ মহল সম্মানীয় সাবেক এমপি মহোদয় ও দলকে বিতর্কিত করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিল।
”সবাইকে আহ্বান জানাব—যেকোনো প্রকার বিতর্ক এড়াতে এবং দলকে সুসংগঠিত রাখতে প্রত্যেক ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝেই বণ্টন করে দেওয়া উচিত। তৃণমূল শক্তিশালী হলেই দল শক্তিশালী হবে।”
রাজনীতিতে এই ধরনের সচ্ছতা ও ত্যাগ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





