অপকর্ম ঢাকতে কার্ড বা পরিচয়পত্র সর্বস্ব সাংবাদিকতা: মঠবাড়িয়ায় পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের অস্তিত্ব সংকট

 তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংখ্যা ৩,১৪৪টি। তাত্ত্বিকভাবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই অনুপাত অনুযায়ী সংবাদকর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ার কথা থাকলেও, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত ও পেশাদার সাংবাদিকের বাইরেও অপেশাদার ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ভিড় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। সম্প্রতি মঠবাড়িয়া উপজেলায় যত্রতত্র প্রতিনিধি নিয়োগ এবং এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় অনলাইন বা পত্রিকার নামে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে না। এর ফলে সমাজের কিছু বিতর্কিত চরিত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা সহজেই সাংবাদিকতার কার্ড বা পরিচয়পত্র বাগিয়ে নিচ্ছেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুধীসমাজের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এমন কিছু ব্যক্তিকে সাংবাদিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে দেখা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট নিউজ বা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“বিগত দিনে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের নিউজ হয়েছে, আজ তারাই সাংবাদিক বনে গেছেন। অতীতে ভুল চিকিৎসায় গরু মারা যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি, নারী কেলেঙ্কারিতে জেল খাটা ব্যক্তি, জমিজমা দখল বা বিরোধের অভিযুক্ত এবং অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত প্রাইভেট ক্লিনিকের মালিকরাও আজ সাংবাদিকের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশায় যারা আসেন তারা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—এক পক্ষ শখ বা নেশা থেকে সাংবাদিকতা করেন, অন্য পক্ষ একেই জীবিকা ও পেশা হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত অপকর্ম, দুর্নীতি ও অপরাধ ঢাকতে বা আইনি ঝামেলা এড়াতে সাংবাদিকতার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন তা গোটা সমাজ ও জাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
এ ধরনের নামসর্বস্ব ও ভুঁইফোড় প্রতিনিধিদের কারণে মাঠপর্যায়ে কাজ করা মূলধারার সৎ ও পেশাদার সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও কর্মরত সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক ও মফস্বল সম্পাদকদের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি নিয়োগের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং নৈতিক চরিত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। অন্যথায়, সাংবাদিকতার মতো পবিত্র পেশা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে এবং মূলধারার সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়বেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন