বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ হরিণ শিকারের বিরুদ্ধে অবশেষে সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২.৩০ মিনিটের দিকে জীবন ঝুঁকি নিয়ে পরিচালিত এ অভিযানে হরিণ শিকারি চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
জানা যায়, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা সদর এইচ এম জলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি চৌকস দল গভীর রাতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে বান্দরবান সদর থানা পুলিশের সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।
অভিযান চলাকালে দুইটি বসতঘর থেকে রান্না করা হরিণের মাংস জব্দ করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ শিকারের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আটককৃতরা হলেন কাইচতলী তুলাতুলি এলাকার—দিল মাহাম্মুদ (৪৪), তার ছেলে আবু তাহের (১৮), মো. জোবায়ের (২৭) এবং মো. সাইফুল ইসলাম (১৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের কাইচতলী তুলাতুলি বাজার থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্বে চালিগাটা পাহাড় এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকার করে আসছিল। তারা বনের হরিণ ধরে জবাই করে মাংস নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা এবং বিক্রি করত।
বিশেষ করে মা হরিণ শিকারের প্রবণতা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকির মুখে পড়ছে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৫ মার্চ দুটি মা হরিণ জবাইয়ের পর আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং শেষ পর্যন্ত বন বিভাগ গভীর রাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিযান চালায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে আরও ১৫ থেকে ২০ জন জড়িত রয়েছে, যারা নিয়মিত জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে হরিণ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযান শেষে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দুর্গম পাহাড়ে গভীর রাতে নিজের জীবন বাজি রেখে এমন সফল অভিযান পরিচালনা করায় বন কর্মকর্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী রক্ষা পাবে।
এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “বন্যপ্রাণী রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। যারা এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।




