আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, গভীর রাতে এএসআইকে ধরে গণপিটুনি

ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে মাদক মামলার আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন মো. ইমরান হাসান নামের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত এএসআই ইমরান সালথা থানায় কর্মরত এবং ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত।

তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, তিনি আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। আর মাদক মামলার আসামির পরিবারের দাবি এটি পরকীয়ার ঘটনা। ইমরানকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মাদক মামলার সুবাদে এএসআই ইমরান হাসান মেহেদী হাসানের বাড়িতে যেতেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মেহেদী হাসানের বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে লোকজন তাকে ধরে মারধর করে। পর সালথার পুলিশ এএসআইকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান বলেন, আমি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ব্যবসায়িক কাজে আমি মাঝে মাঝে বাইরে থাকি। এ সুযোগে আমাদের ইউনিয়নে পুলিশের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা এএসআই ইমরান মাঝে মাঝে আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের কুরুচিপূর্ণ কথোপথোনের অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এরই মধ্যে শুক্রবার গভীর রাতে ইমরান আমাদের ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী হাতেনাতে ইমরানকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ বিষয় এএসআই ইমরান হাসানের দাবি, আমি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলাম। তবে সাদা পোশাকে রাত ৩টার সময় আসামিকে একা ধরতে যাওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে মাদককারবারি মেহেদীর পরিবার তাকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গভীর রাতে একা কেন মাদকের আসামি ধরতে গেলেন তিনি এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কেন তিনি একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া আসামির বাড়িতে গিয়েছিলেন বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন