ঈশ্বরদীতে পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ক্রেতারা হাট, খামার ও গৃহস্থের বাড়ি থেকে নিজেদের পছন্দের কোরবানির পশু কিনছেন। সারাবছর লালন-পালন করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু ও ছাগল বিক্রি শুরু করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। অনেক খামারি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও গরু বিক্রি করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। এবার কোরবানির আগে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ না করলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন অনেকেই।
খামারিরা জানান, ভালো দামের আশায় সারাবছর গরু লালন-পালন করেছেন। এবার বাজার দর মোটামুটি ভালো রয়েছে। কোরবানির আগ পর্যন্ত এ বাজার দর বজায় থাকলে খামারি ও গৃহস্থরা কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখবেন। তবে ঈদের আগে যদি ভারতীয় গরু দেশে ঢুকে পড়ে তাহলে লোকসানের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বর্তমানে ৩ থেকে সাড়ে ৩ মণ ওজনের গরু ৯০-৯৫ হাজার টাকা, ৫ মণ ওজনের গরু ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৮ থেকে ১০ মণ ওজনের গরু ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানা যায়। কোরবানির গরুর প্রতি মণের বাজার দর ৩০থেকে ৩২ হাজার টাকা।
খামারিরা আরও জানান, ৩ থেকে সাড়ে ৩ মণ ওজনের একটি গরু সারাবছর লালন-পালনে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ আকারের গরুকে প্রতিদিন খেসারি, ধান, ভুট্টা ও ভুসি মিশ্রিত দানাদার খাবার ৪ কেজি এবং কাঁচা ঘাস ও খড় ১৫-১৬ কেজি খাওয়াতে হয়। বড় গরুর ক্ষেত্রে খাবারের পরিমাণ আরও বেশি লাগে। এছাড়া খাবার, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ রয়েছে।
উপজেলার অরণকোলা হাটের আশেপাশে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রায় শতাধিক গরুর খামার রয়েছে। প্রতিটি খামারেই কোরবানির উপযোগী গরু রয়েছে। পছন্দের গরু কিনতে অনেকেই খামার ঘুরে দেখছেন। পাশাপাশি গরু ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরাও দরদাম করছেন। অনেক খামারি অনলাইনেও গরু বিক্রি করছেন। এসব খামারে ৩ থেকে ১২ মণ ওজনের গরু বেশি রয়েছে। খামারগুলোতে শাহিওয়াল, দেশাল, ঘির, হরিয়ানা, ফ্লাগবি, মীরকাদেমী, ফ্রিজিয়ান, জার্সি, ব্রাহামা ক্রস, রাখি শাহিওয়ালা, ওলিবারী শিবসহ ১৫-২০ জাতের গরু দেখা যায়।
অরণকোলা গ্রামের তানভীর ডেইরী খামারের স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া সোহান বলেন, আমাদের খামারে কোরবানির জন্য ১৫০ থেকে ২০০ গরু প্রস্তুত করা হয়। পর্যায়ক্রমে বিক্রি করতে করতে এখন ১০০ গরু আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন। আমাদের খামারে সর্বোচ্চ ১৪০০ কেজি ওজনের গরু ছিল, যেটি দুই বছর লালন-পালন করেছি। দুই দিন আগে সেটি বিক্রি হয়েছে। এবছর বাজারের অবস্থা মোটামুটি ভালো, দাম খুব বেশি বা কম নয়। খাবারের দাম বাড়ায় খরচও বেড়ে গেছে। একটি গরু সারাবছর লালন-পালন করে ১০-১২ হাজার টাকা লাভ করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিদেশ থেকে গরু আমদানি না হলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমাদের দাবি, সরকার যেন সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি রাখে যাতে কোনো ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করতে না পারে।
মুনতাহা ডেইরী ফার্মের স্বত্বাধিকারী বাচ্চু প্রামানিক বলেন, আমরা খামারে গরু লালন-পালন করে অনলাইন ও সরাসরি বিক্রি করি। গবাদিপশুর ব্যবসায় খুব একটা লোকসান হয় না। খামারি নিজে খামার দেখভাল করলে লোকসান হয় না। অনলাইনে যারা গরু কিনবেন তারা খামার ও সাইনবোর্ড দেখে কিনবেন। সাইনবোর্ড থাকা খামারীরা সাধারণত প্রতারণা করে না। সরাসরি এসে দেখে গরু কেনাই সবচেয়ে ভালো।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩ হাজার ৫৫ জন খামারি প্রায় ৭৪ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করছে। এ উপজেলার আনুমানিক চাহিদা ৪৩ হাজারের মতো। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, এবার খামারিরা গবাদিপশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং লাভবানও হবেন বলে উল্লেখ করেন।



