কে হচ্ছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ বর্তমানে শূন্য। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। ফলে এই পদে কাকে দেখা যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই।
আলোচনায় সম্ভাব্য কয়েকটি নামের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এ মুহূর্তে তাঁদের কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক আলোচনা ও সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
রাষ্ট্রপতি পদ একটি—সুতরাং শেষ পর্যন্ত যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একজনকেই এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছেন। দলের কঠিন সময়েও তিনি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা এবং দলের প্রতি আনুগত্য তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি বিবেচনায় সম্ভাব্য নাম হিসেবে আলোচনায় রাখে।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম
অন্যদিকে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ১৩তম জাতীয় সংসদের স্পিকার।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
আমরা ভোলাবাসী হিসেবে এ জায়গায় স্বাভাবিকভাবেই গর্ব অনুভব করি। কারণ দেশের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে বর্তমানে আমাদের ভোলার একজন কৃতী সন্তান রয়েছেন। স্পিকার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ তাঁকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্যদিকে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকালীন সময়ে বড় দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সেই সরকারের নেতৃত্ব দেন।
দেশ-বিদেশে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিতি, নোবেল পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনায় তাঁর নাম আসাটিও অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।
শেষ কথা
রাষ্ট্রপতি পদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। কে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, সেটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম কিংবা ড. মুহাম্মদ ইউনূস—প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ক্ষেত্রে আলাদা অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিএনপির মধ্যেও আরও অনেক সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতা রয়েছেন, যারা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখেন।
তবে ভোলার মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা ও শুভকামনা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম স্যারের প্রতি। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তিনি যেন সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাফল্যের জন্য ভোলাবাসীর পক্ষ থেকে রইল আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সাংবাদিক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে হওয়া সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চকরিয়ায় মানববন্ধনদৈনিক যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ও গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় দায়ের করা মিথ্যা ও সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় চকরিয়া থানা সেন্টার এলাকায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, চকরিয়া উপজেলা শাখার ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংঘটনটির চকরিয়া উপজেলা সভাপতি আবুল মনসুর মোঃ মহসিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ বিন হোছাইনের সঞ্চালনায় আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিক মুহাম্মদ আবুল কাশেম একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক। তিনি বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রতিনিয়ত চষে বেড়ান। তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সাংবাদিক মুহাম্মদ আবুল কাশেম দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি তিনি তাঁর নিজ জন্মস্থান টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা সৃষ্টি হওয়ায় তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষের কিছু কুচক্রী মহল আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন আগে টেকনাফ থানায় একটি মামলায় জড়িয়ে আবারও সাংবাদিক আবুল কাশেমকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। টেকনাফের চিহ্নিত কিছু ইয়াবা কারবারীর মদদে ও অর্থায়নে এসব হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে একজন পরিচ্ছন্ন সাংবাদিককে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ সভা থেকে বক্তারা সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ঘোষিত কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা পোষন করে তা বাস্তবায়ন এবং অবিলম্বে সাংবাদিক নেতা মুহাম্মদ আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় এ ঘটনার প্রতিবাদে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন তারা। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল সাঈদ সোহেল, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি অলি উল্লাহ রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নুরুল আমিন টিপু ও জহিরুল আলম সাগর প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমকালের সাংবাদিক হিরু আলম, রাজু দাশ, কালবেলার জুলফিকার আলী ভুট্টো, শাহাদাত আলী জিন্নাহ, তৌহিদুল ইসলাম, রিয়াদ উদ্দিন, তানবীরুল ইসলাম, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান অপু, ইয়ার রহমান আনান, সুনিপ দাশ সৌরভ, রিদুয়ানুল হক, ফয়সাল আলম সাগর, রুবেল খান, শফিউল করিম সবুজ, হোসাইন মোহাম্মদ সবুজসহ চকরিয়া ও পেকুয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

দৈনিক যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ও গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের