দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদগুলোতে রদবদল হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এখনো বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঈদের পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। এই দৌড়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলামের নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই জাবি প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে পরিবর্তন না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি অংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রমতে, বর্তমানে উপাচার্য পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম থাকলেও প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন মুখ আসার বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই খবরে জাতীয়তাবাদী ঘরানার শিক্ষকদের মধ্যে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আলোচনায় যারা রয়েছেন, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আভাস দিয়েছেন যে, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদের জন্য অধ্যাপক নজরুল ইসলামের নাম তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন, অধ্যাপক শামীমা লাকি (বাংলা বিভাগ),
অধ্যাপক সামছুল আলম সেলিম (ডিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ), অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু (পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ), অধ্যাপক নাহরীন সুলতানা, অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বর্তমানে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ও ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই দৌড়ে এগিয়ে থাকার পেছনে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, তার মেধাবী একাডেমিক ক্যারিয়ার। তিনি ডাবল গোল্ড মেডেলিস্ট এবং একাধিক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের সক্রিয় পদধারী নেতা এবং বর্তমানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক রাজনীতির অন্যতম কাণ্ডারি। এছাড়াও সাম্প্রতিক ‘জুলাই আন্দোলনে’ সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব আসলে স্থবির হয়ে থাকা প্রশাসনিক কাজে গতি ফিরবে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও চ্যান্সেলর (রাষ্ট্রপতি) দপ্তর থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর। এখন শুধু অপেক্ষা—পরবর্তী সময়ে জাবি প্রশাসনের হাল ধরছেন কারা।




