জিয়াউর রহমানের গণভোট জায়েজ হলে এখন অবৈধ কেন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার এখন গণভোটকে অবৈধ বললেও এর প্রস্তাব তারাই দিয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ের গণভোট জায়েজ হলে সর্বশেষ গণভোট নাজায়েজ হবে কেন—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি সংকট নেই অথচ লোডশেডিং এখন মিনিমাম ৬ ঘণ্টা, ম্যাক্সিমাম ১০ ঘণ্টা। এটা হলো ঘোষিত। আর অঘোষিত কতটা, সেটা বলা যাবে না। আমাদের যদি তেল মানে জ্বালানি সংকট নেই, যদি আমাদের বিদ্যুতের সংকট নেই, তাহলে লোডশেডিং কেন?

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের জেলা ও মহানগরীর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনকালে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল-ফালাহ মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং সাংগঠনিক ৭৯টি জেলা ও মহানগরীর আমির-সেক্রেটারিরা।

জামায়াত আমির উদ্বোধনী বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনে শহীদের মর্যাদা ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন। এ ছাড়া যারা জেল-জুলুম-নির্যাতন ও আয়নাঘরের শিকার হয়েছেন, যাদের জান মাল ও ইজ্জতের ওপর আঘাত হয়েছে, তাদের প্রতিও জামায়াতের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।

চাঁদাবাজির রেট দিন দিন সব সেক্টরে বাড়ছে অভিযোগ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতিষ্ঠ জনগণ দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে পিষ্ট। জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ আর বাড়তি চাঁদার চাপ খেটে খাওয়া মানুষের ঘাড়ে চাপছে।

কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ডে দলীয়করণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। অনেক অঘটন ঘটে যাওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, ‘এক বিধবা, তাকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার জীবনটাই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। একটা কেস এসেছে, বাকিটা হয়তো লজ্জায় মুখ বুজে আছে। জানি না এ রকম হয়েছে কি না, আল্লাহ ভালো জানেন। সেখানে আবার চাঁদাবাজি হচ্ছে এটাকে কেন্দ্র করে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন করে আয়নাঘর সৃষ্টি, গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান জামায়াত নেতা। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

 গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা এর প্রথম রাজসাক্ষী। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দ্বিতীয় রাজসাক্ষী উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, অধ্যাপক ইউনূস ক্যাপ্টেনের হাতে যুক্তরাজ্যে গিয়ে ট্রফি তুলে দিয়ে এসেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা এমন প্রশ্নও তোলেন—ট্রফি যদি ওখানেই তুলে দেওয়া হয়, তাহলে আর নির্বাচন থাকল কোথায়। ইতিহাস ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ‘পোস্টমর্টেম’ করবে।

ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, এখন সাড়ে সাত পার্সেন্ট ওই কালপ্রিটরা টাকা দিলে আবার ব্যাংকের মালিক হয়ে যাবে। কোথায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? এখন ব্যাংকের ওপর থাবা শুরু হয়েছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, স্বাধীন বিচারালয়ের আলাদা সচিবালয় করাকে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মানে বিচারকে আর স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হবে না।

উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশ নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখানেও দলীয় প্রভাব। দলীয় ভিত্তিতে যখন বিচারক তৈরি হবে, তখন বিচারপতি খায়রুল হক তৈরি হবে, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তৈরি হবে, শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম তৈরি হবে। ওটাই হলো দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের কুফল।

জামায়াত আমির ভুল থেকে বেরিয়ে এসে গণভোটের গণরায়কে মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ফ্যাসিজম থেকে দেশের শাসন ব্যবস্থাকে মুক্ত করার যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল, সেগুলো বিল আকারে আনারও আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন