জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন সংকট, অন্যদিকে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বরগুনার কৃষকরা। এর সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র পানির দামে আলু কিনতে তৎপর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন পুরোদমে চলছে আলু উত্তোলন। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের
কৃষকদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বাহন স্বল্পতার অজুহাতে পাইকাররা স্থানীয় বাজার থেকেই কম দামে আলু কিনতে চাইছেন। পাশাপাশি জেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় কৃষকরা আলু সংরক্ষণ করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পাথরঘাটার একাধিক কৃষক জানান, গত বছরও আলু চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন তারা। এবার ভালো ফলনের আশা থাকলেও একই সমস্যার কারণে আবারও লোকসানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আলু চাষ করে খরচের টাকাও উঠানো সম্ভব হবে না
জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
একইভাবে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর বরগুনা জেলায় আলু আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৪৫ হেক্টর জমিতে। তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৭৭৩ হেক্টর জমিতে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত হিমাগার নির্মাণ, পরিবহন সংকট নিরসন এবং বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তারা। এতে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




