নাটোরে গুরুদাসপুর উপজেলার একমাত্র চলনবিল ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে চরম নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তারা চলে গেলেই একটি অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি করে।
সোমবার সকালে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক সংলগ্ন এই ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এ সময় অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত সিরিয়াল উপেক্ষা করে কিছু ব্যক্তি বোতল ও প্লাস্টিকের জারে অকটেন সংগ্রহ করতে থাকে। এতে সাধারণ বাইকাররা প্রতিবাদ জানালে ওই চক্রটি লাঠি ও লোহার পাইপ নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই পাম্পটিতে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। পার্শ্ববর্তী তাড়াশ, চাটমোহর ও উল্লাপাড়া উপজেলার বাইকাররা ফুয়েল কার্ডের সীমাবদ্ধতার কারণে এখানে ভিড় করছেন, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র ড্রামে করে তেল সংগ্রহ করে পরে তা অধিক মূল্যে কালোবাজারে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলনবিল ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. খবিরউদ্দিন বলেন, বর্তমানে আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ তেল বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় কিছুটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও অতিরিক্ত চাহিদা ও বণ্টন ব্যবস্থাপনা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, জেলাসহ গুরুদাসপুরে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ রয়েছে। কেউ যদি অবৈধ মজুত বা কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।”
এদিকে, সাধারণ গ্রাহকরা এই নৈরাজ্য বন্ধে ফিলিং স্টেশন এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা ও নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকির দাবি জানিয়েছেন।




