ফল বিক্রেতার মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আজমিরীগঞ্জ থানার এসআই রাসেল মিয়াকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এর আগে রাজধানী ঢাকার সাভার থানা থেকে প্রত্যাহার হয়েছিলেন অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের ব্যাখ্যা দিতে না পেরে। তাকে নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে।
মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠার পর গতকাল সোমবার আজমিরীগঞ্জ থানা থেকে তাকে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ফল কেনার পরও এসআই রাসেল মিয়া প্রায় পাঁচ মিনিট দোকানে অবস্থান করেন। দোকানের টেবিলের ওপর রাজিব আহমেদের কালো রঙের একটি স্মার্টফোন রাখা ছিল। একপর্যায়ে এসআই রাসেল হাতে থাকা একটি ফাইল ও নিজের লাল রঙের মোবাইল ফোনটি দোকানির মোবাইলের ওপর রাখেন। পরে কথা বলার সময় দুটি ফোনই পকেটে ঢুকিয়ে নেন, যা ফুটেজে দেখা গেছে।এরপর ফলের ব্যাগ হাতে নিয়ে আরও প্রায় এক মিনিট দোকানির সঙ্গে কথা বলে তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন ব্যবসায়ী রাজিব আহমেদ। এতে এসআই রাসেলকে মোবাইলটি নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
দোকানদার রাজিবের দাবি, পরে তিনি এসআই রাসেলের কাছে মোবাইল ফোনটি ফেরত চান। তবে রাসেল প্রথমে ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে গভীর রাতে মোবাইলটি ফেরত না দিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে জানান রাজিব।
ব্যবসায়ী রাজিব আহমেদ বলেন, আমার মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার পর রাতে এসআই রাসেল ফোনটি হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান। এ কারণে তিনি আমাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি মো. আকবর হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজটি দেখেছি। ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলায় এসআই রাসেল ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সোমবার তাকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


