মান্দায় খাল পুনঃখননে বদলে যাচ্ছে হাজারো কৃষকের ভাগ্য

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় পুনঃখনন করা একটি খাল বদলে দিয়েছে হাজারো প্রান্তিক কৃষকের জীবন-জীবিকার চিত্র। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, সেচ সংকট ও ফসলহানির দুর্ভোগ কাটিয়ে এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন কুশুম্বা ইউনিয়নের কৃষকেরা। সরকারের পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় ৮ নম্বর কুশুম্বা ইউনিয়নের কাটাগাড়ী, রাজেন্দ্রবাটি, হাড়কিশোর ও বিলকরিল্যা মৌজাজুড়ে ১ দশমিক ০৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান নওফেল আলী মণ্ডল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী এবং মান্দা আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর তদারকিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।

স্থানীয়দের মতে, জনগণের উন্নয়ন ও কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই প্রকল্পে। গ্রামীণ জনপদের অবহেলিত খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব হিসেবে দেখছেন তারা।

বিলকরিল্লা গ্রামের কৃষক অছিম উদ্দিন মন্ডল বলেন, সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু স্থানীয় কৃষকদের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নওফেল আলী মণ্ডল মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করায় কাজটি দ্রুত ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম ও বিল উতরাইল গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা জানান, হাড়কিশোর মৌজার বিল উথরাইল ব্রিজ থেকে বাদলঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত খালটি দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে কৃষিজমি তলিয়ে যেত। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো কৃষকদের। সামান্য বৃষ্টিতেই পাকা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যেত।

তারা আরও জানান, খাল পুনঃখননের ফলে এখন চারটি বিলের পানি সহজেই নিষ্কাশন হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা কমেছে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকেরা আশা করছেন, আগে যেখানে বছরে একটি মাত্র ফসল ফলতো, সেখানে এখন দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি খালে সারা বছর পানি থাকায় মাছের অভয়াশ্রমও গড়ে উঠবে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এই খাল পুনঃখনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি তাদের জীবন-জীবিকার নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

কুসুম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মণ্ডল বলেন, “মান্দা সদর, কুসুম্বা ও ভাঁরশো ইউনিয়নের হাজারো কৃষকের প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক ক্ষতি হতো। এই খাল খননের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, মান্দা উপজেলায় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর দিকনির্দেশনায় ইতোমধ্যে তিন কিলোমিটার খাল খননের দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ এবং অন্যটির কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প দুটি সম্পন্ন হলে হাজার হাজার কৃষক উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে খাল খনন ও পুনঃখননকে অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে মান্দায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। এর মাধ্যমে স্থানীয় হাজার হাজার কৃষক সুষ্ঠুভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

এ বিষয়ে মান্দা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে মান্দায় ইতোমধ্যে দুটি খাল খননের প্রকল্প চলমান রয়েছে। আগামী দিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও ছোট-বড় খাল খনন করা হবে, যাতে কৃষকরা নির্বিঘ্নে ফসল উৎপাদন করতে পারেন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।”

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন