
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিতে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪২০টি জেলে পরিবারকে ৮ হাজার ৮১০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি হারে এসব চাল বিতরণ করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ শাখা থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি করা সরকারি আদেশে বরিশাল বিভাগের জেলা ও উপজেলাভিত্তিক এ বরাদ্দের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বরাদ্দের হিসাবে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে ভোলায় সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৬টি জেলে পরিবার এ সহায়তা পাচ্ছে। তাদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩ হাজার ৬১৩ দশমিক ৯ মেট্রিক টন চাল।
এরপর বরিশাল জেলায় ৭৯ হাজার ৮৯০টি জেলে পরিবারের জন্য ১ হাজার ৯৯৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। বরগুনায় ৫৩ হাজার ১৬৯টি পরিবারের জন্য ১ হাজার ৩২৯ দশমিক ২২৫ টন, পটুয়াখালীতে ৪৯ হাজার ৬৬০টি পরিবারের জন্য ১ হাজার ২৪১ দশমিক ৫ টন, পিরোজপুরে ২০ হাজার ৯৪৫টি পরিবারের জন্য ৫২৩ দশমিক ৬২৫ টন এবং ঝালকাঠিতে ৪ হাজার ২০০টি জেলে পরিবারের জন্য ১০৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুরে ২০ হাজার ৯৪৫ পরিবার
সরকারি তালিকা অনুযায়ী, পিরোজপুর জেলার সাত উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৯৪৫টি জেলে পরিবার ভিজিএফ সহায়তা পাবে।
এর মধ্যে পিরোজপুর সদরে ২ হাজার ২৫০, মঠবাড়িয়ায় ৬ হাজার, ভাণ্ডারিয়ায় ৩ হাজার ৪০০, নাজিরপুরে ২ হাজার ৬০০, নেছারাবাদ ও স্বরূপকাঠীতে ২ হাজার ২৪৫, ইন্দুরকানীতে ২ হাজার ৮০০ এবং কাউখালীতে ১ হাজার ৬৫০টি জেলে পরিবার রয়েছে।
এসব পরিবারের জন্য মোট ৫২৩ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে।
পটুয়াখালীতে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার
পটুয়াখালী জেলার চার উপজেলায় মোট ৪৯ হাজার ৬৬০টি জেলে পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদরে ৮ হাজার, কলাপাড়ায় ১৮ হাজার ৬৬৪, বাউফলে ৪ হাজার ৭৯৬ এবং গলাচিপায় ১৮ হাজার ৮০০টি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ২৪১ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল।
বরগুনায় ৫৩ হাজারের বেশি জেলে পরিবার
বরগুনায় ৫৩ হাজার ১৬৯টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে। জেলার বরগুনা সদরে ৮ হাজার ৪০৭, আমতলীতে ৭ হাজার, পাথরঘাটায় ১৩ হাজার ৫০০, বামনায় ১৫ হাজার ২২২, বেতাগীতে ৩ হাজার ৪০ এবং তালতলীতে ৬ হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। তাদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৩২৯ দশমিক ২২৫ মেট্রিক টন চাল।
অন্যদিকে ঝালকাঠি সদরে ১ হাজার, রাজাপুরে ১ হাজার ২০০, নলছিটিতে ১ হাজার এবং কাঠালিয়ায় ১ হাজার—মোট ৪ হাজার ২০০টি জেলে পরিবার পাবে ১০৫ টন চাল।
দেশের মোট বরাদ্দের অর্ধেকেরও বেশি বরিশাল বিভাগে। মন্ত্রণালয়ের আদেশে সারাদেশের ৬৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলায় ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারের জন্য মোট ১৬ হাজার ১৫৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় রয়েছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪২০টি পরিবার। অর্থাৎ, জাতীয় বরাদ্দের প্রায় ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ জেলে পরিবারই বরিশাল বিভাগের। একইভাবে মোট চাল বরাদ্দের প্রায় ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ এ বিভাগে দেওয়া হয়েছে।
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নদী ও সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এই সময়ে জেলেদের আয় বন্ধ থাকায় খাদ্য সহায়তা হিসেবে সরকারি এ চাল বিতরণ করা হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পর্যায়ের তালিকা অনুযায়ী জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে চাল বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।।





