মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে আনসারুল্লাহ আন্দোলন। ইয়েমেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলওয়াহিদ আবু রাস এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো সংঘাতে হিজবুল্লাহর সঙ্গে “কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে” লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছে সানা প্রশাসন।
হিজবুল্লাহর আরব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক প্রধান আম্মার আল-মুসাভির কাছে পাঠানো ওই বার্তায় ইয়েমেনি কর্মকর্তা ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের অবস্থান গোটা অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে এবং ইসরায়েলবিরোধী লড়াইয়ে হিজবুল্লাহর ভূমিকা এখন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, লেবানন ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইয়েমেনের অবস্থান “অপরিবর্তিত ও অটল”। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক প্রতিরোধশক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন ও লেবাননের এই ঘনিষ্ঠ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এর আগে আনসারুল্লাহ আন্দোলনের প্রধান আবদুল মালিক আল-হুথি পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরায়েল এখন অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এই নীতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে।
আল-হুথি আরও অভিযোগ করেন, মুসলিম ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পবিত্র কোরআনের অবমাননার মাধ্যমে ইসরায়েল ও তার মিত্ররা নতুন ধরনের উসকানি তৈরি করছে। তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ফিলিস্তিন ও অঞ্চলের প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন এখন সময়ের দাবি।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেন, লেবানন, ইরান ও ফিলিস্তিন ইস্যুকে ঘিরে আঞ্চলিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে এই উত্তেজনা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে।



