
ঘুম থেকে উঠে ঘরের দেয়ালে ফাটল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় মাটি ধসে পড়া। প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে বের হওয়ার পর চোখের সামনে নদীতে বিলীন হয়ে যায় বসতঘর। একই সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যুতের একটি খুঁটি। আকস্মিক নদীভাঙনে এভাবেই সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের মধ্য সোনাকুর গ্রামের পালপাড়ার বাসিন্দারা।
রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে হঠাৎ তীব্র ভাঙন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় মনা মালোর একটি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটিও। এতে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
স্থানীয়দের হিসাবে, বর্তমানে অন্তত ১০ থেকে ১২টি বসতবাড়ি সরাসরি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে অমল পাল, পরিমল পাল, তৃপ্তি পাল, রবি মালো, বিপুল মালো, সুজন মালো, সঞ্জীব মালো ও রমেন পালসহ বেশ কয়েকটি পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে কিংবা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে এই এলাকায় ২০ থেকে ২২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অমল পাল ও রবি মালো বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা ঘরের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাঙনে ঘরসহ তাদের সর্বস্ব নদীতে চলে যায়। এখন কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
বসতবাড়ির পাশাপাশি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকার পাঁচটি মন্দির। এগুলো হলো—লোকনাথ মন্দির, কালী মন্দির, দুর্গা মন্দির, শীতল মন্দির ও গঙ্গা মন্দির।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকানো না গেলে যেকোনো সময় মন্দিরগুলোর কোনোটি নদীতে বিলীন হতে পারে। সামনে দুর্গাপূজা হওয়ায় মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিপুল মালো বলেন, গ্রামের পাঁচটি মন্দিরই এখন নদীভাঙনের মুখে। দুর্গাপূজার আগে মন্দিরগুলো রক্ষা করা যাবে কি না, তা নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙন ও ঘরহারা পরিবারের অনেকেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠিকমতো খাবারও পাননি। শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন—এ চিন্তায় দিশেহারা তাঁরা।
ভাঙনের খবর পেয়ে আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তারও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, ভাঙনের বিষয়টি উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি আশ্রয়, খাবার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে নদীর কবল থেকে পাঁচটি মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।।




