গলাচিপায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীকে জড়িয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীর মা মোসা. নার্গিস পারভীন এর আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টায় উলানিয়া বন্দরের তার নিজ বাসভবনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এসময় তার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার ছেলে মো. আশিকুর রহমান বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে মানবিক বিভাগে চলমান এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে এবং তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩১৫১৯৪৭১৪ এবং রোল নম্বর ৯৯০০৩২।
নার্গিস পারভীনের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক মো. বুলবুল এর কাছে তার ছেলে প্রাইভেট না পড়ার কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনী পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অকৃতকার্য করিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ফরম পূরণের সুযোগ দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধান অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে একাধিকবার অনুরোধ করলেও কোনো সমাধান পাননি।
তিনি আরও বলেন, একই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একজন শিক্ষার্থী কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও ফরম পূরণের সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া অর্থ লেনদেনের মাধ্যমেও ফরম ফিলআপে অনিয়ম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. মাহফুজুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে জমা দেন। বোর্ড কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাইবাছাই সাপেক্ষে তাঁর ছেলের ফরম পূরণ সম্পন্ন করে এবং তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
তবে সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদে অধ্যক্ষ মাহাফুজুর রহমান তার নিজ স্বাক্ষর অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ করেন নার্গিস পারভীন। এ বিষয়ে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বাক্ষরটি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন স্থলে উপস্থিত হয়ে অন্য এক শিক্ষার্থী মো. মোমেন এর মাতা মোসা. লিপি বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে অভিযোগ তুলে বলেন, তার ছেলের ফরম পূরণে সহকারী শিক্ষক বুলবুলসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষকদের দাবিকৃত অতিরিক্ত টাকা প্রদান করতে না পেরে তার ছেলে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ সম্ভব হয়নি বলে এবং পরীক্ষা না দিতে পারার শোকে তার ছেলে বর্তমানে পাগল প্রায়। ওই নারী আরও অভিযোগ তুলে বলেন, আমি আমার পরিবার নিয়ে উলানিয়া আশ্রায়ণ প্রকল্পে বসবাস করি এবং মানুষের বাসায় কাজ করে ছেলেকে পড়ালেখা করাইতেছি। তাই তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিচার চান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

মস্তফাপুরে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজী কাওসারের জনসমর্থন তুঙ্গে

​আসন্ন মাদারীপুর সদর উপজেলার  মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চারদিকে