
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, বেকারত্ব দূরীকরণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় উন্নয়নে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে গলাচিপা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। র্যালির মাধ্যমে যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের বার্তা তুলে ধরা হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান এবং প্রেসক্লাব গলাচিপার সভাপতি মু. খালিদ হোসেন মিল্টন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, যুবসমাজ একটি দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শক্তি। তরুণদের মেধা, শ্রম, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। দক্ষ ও কর্মক্ষম যুবসমাজ গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি একটি আত্মনির্ভরশীল, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, বরং কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবসমাজকে সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে সহায়তা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তাঁরা মনে করেন, যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক উন্নয়ন এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশপ্রেম, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ তরুণ প্রজন্মই পারে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
আলোচনা সভায় যুবসমাজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।





