বুধবার,৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চাচার নির্মম নির্যাতনের ২৮ দিন পর ভাতিজার মৃত্যুর অভিযোগ

ফরিদপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচা ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে ২৮ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেম মোল্যা (৪২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত আবুল কাশেম মোল্যা ফরিদপুর শহরতলীর বিলমামুদপুর হাজী ভ্রমরদি বেপারীডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা এবং আবুল হাশেমের ছেলে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর ডায়াবেটিকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন।

মৃতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে একই এলাকার আফজাল মোল্যা (৫৫), তার ছেলে তামিম মোল্যাসহ পরিবারের আরও কয়েকজন মিলে আবুল কাশেম মোল্যাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা। অভিযোগ রয়েছে, লোহার পেরেক বসানো কাঠের বস্তু দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার বাম পায়ে লোহার পেরেক ঢুকে মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়।

নির্যাতনের পর ধীরে ধীরে তার পায়ে পচন ধরতে শুরু করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়। একপর্যায়ে ঢাকার বারডেম হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো হয় বলে জানান স্বজনরা। তবে অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। সর্বশেষ গত ১৩ জানুয়ারি তাকে আবার ফরিদপুর ডায়াবেটিকস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশনের প্রস্তুতি চলাকালীন বুধবার বিকেলে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ভাই হত্যার বিচার দাবি করে নিহতের ছোট ভাই রাজু মোল্যা বলেন, আমার ভাইকে ৭-৮ জন মিলে কাঠের বাটাম দিয়ে পায়ের নিচে প্রচুর আঘাত করেছে। আঘাতের কারণে পায়ে পচন ধরে, নার্ভগুলো অকেজো হয়ে যায় এবং রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভাইকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ঢাকায় বারডেম হাসপাতালেও নিয়েছিলাম, কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। অপারেশনের জন্য ওটিতে নেয়ার আগেই আমার চোখের সামনে ভাই প্রচণ্ড ব্যথা সহ্য করতে না পেরে মারা যায়। যারা আমার ভাইকে এভাবে পিটিয়ে মেরেছে, আমি তাদের সবার বিচার চাই।

সন্ধ্যায় নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী ফরিদা পারভীন। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে এলাকাবাসী ও স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা পারভীন অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে, এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এরপরও থানায় গেলে রাতভর আমাকে বসিয়ে রেখে এজাহার লিখলেও সকালে পুলিশ জানায় মামলা নেয়া যাবে না, কোর্টে মামলা করতে হবে। আমরা গরিব মানুষ বলে কি বিচার পাব না? যারা আমার স্বামীকে এত কষ্ট দিয়ে মারল, আমি তাদের প্রত্যেকের ফাঁসি চাই।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মৃতের পরিবার থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছিল। তবে মৃত্যুসনদে আঘাতজনিত মৃত্যুর কথা উল্লেখ না থাকায় আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তারপরও বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে তিনি জানান। পরিবারের দেয়া তথ্যানুযায়ী তামিম মোল্যা নামে একজনকে আটক করা হয় এবং পরে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার মূল অভিযুক্ত আফজাল মোল্যা পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

নাসিরনগরে পাগল শংকর মন্দিরে চুরি: বিগ্রহের স্বর্ণালঙ্কার ও দানবাক্সের টাকা খোয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ফান্ডাউক এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও পবিত্র