ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফল, দিনাজপুর বোর্ডে পাশের হার ৫৮.৫ শতাংশ

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাশের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলে এবারও ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থী। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ কৃতকার্য হয়েছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছাত্রদের পাশের হার ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, অন্যদিকে ছাত্রীদের পাশের হার ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে সার্বিক ফলাফলে মেয়েরাই এগিয়ে রয়েছে।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ছিল ৮২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ২০২১ সালে তা বেড়ে ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়। তবে পরবর্তী সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে ফলাফলের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৫ সালে পাশের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা চলতি বছরে আরও কমে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন বলেন, “নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করায় ফলাফলে এর প্রতিফলন ঘটেছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলেই পাশের হার কিছুটা কমেছে।”
তিনি আরও জানান, এবার বোর্ডের আওতাধীন ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফলাফল প্রকাশের পর দিনাজপুরসহ বোর্ডের অধীন বিভিন্ন জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভালো ফলাফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত তদারকি, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজরদারির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা মনে করছেন। তবে সামগ্রিক ফলাফলের নিম্নগতি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন