দেড় যুগ ধরে নেই মুসলিম শিক্ষক:ধর্মীয় শিক্ষায় বঞ্চিত লামার তিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

​বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে কোনো মুসলিম বা ইসলাম ধর্ম শিক্ষক নেই। ফলে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
​বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে মোট ২৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর মধ্যে ১৫৪ জনই মুসলিম শিক্ষার্থী, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৫৬ শতাংশ। অথচ পাঠদানের জন্য কর্মরত প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জন শিক্ষকের সকলেই মারমা সম্প্রদায়ের। কোনো মুসলিম শিক্ষক পদে না থাকায় এসব শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
​কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানায়, স্কুলে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার কোনো ক্লাস হয় না। ফলে জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলো শিক্ষকের সহায়তা ছাড়া তাদের নিজেদেরই বাড়িতে পড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
​এ বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক সুইচিং মারমা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেরাও বেশ বিব্রত। ৫৬ শতাংশ মুসলিম শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। স্থায়ী সমাধানের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”
​বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে দ্রুত সময়ে ধর্মীয় শিক্ষক পদায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়া।
​লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, শুধু ফাইতং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয় উপজেলার গজালিয়া হেডম্যান পাড়া ও রাজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। শিক্ষক পদায়নের মাধ্যমে দ্রুত এই সংকট সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

‎​ব্রাহ্মণপাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন জামায়াতের নের্তৃবৃন্দরা

কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটে 

প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন মহোদয়ের উদ্যোগে রাসিকে প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন রুয়েট শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে (রাসিক) প্রথমবারের মতো রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি