ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী। সোমবার (১৮) স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশটির গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে মরুভূমিতে বিধ্বস্ত ওই মার্কিন ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ এবং এর সঙ্গে থাকা অত্যন্ত নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে এই বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত হুথি গোষ্ঠী বা মার্কিন সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মারিব শহরের আকাশে তারা আচমকা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এর ঠিক আগেই শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় সারওয়াহ এলাকা থেকে একটি বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে দেখা যায় এবং এর পরপরই মাঝআকাশে পর পর দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
ইয়েমেনের স্থানীয় গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ডিফেন্স লাইন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষেপণাস্ত্রের পেলোডগুলো মারিবের ওয়াদি জেলার পূর্বাঞ্চলীয় একটি মরুভূমি এলাকায় এসে আছড়ে পড়ে।
ডিফেন্স লাইনের সামরিক বিশ্লেষকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে অন্তত দুটি ‘এজিএম-১১৪আর৯এক্স’ যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘নিনজা মিসাইল’ নামে পরিচিত, তার অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে।
এই নিনজা মিসাইলটি মূলত নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য বিশেষভাবে তৈরি মার্কিন ‘হেলফায়ার’ আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অত্যাধুনিক ও পরিবর্তিত সংস্করণ। প্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষের ধরন দেখে সামরিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে ভূপাতিত হওয়া এই চালকবিহীন বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ বা বিমানবাহিনীর অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ইয়েমেনে তাদের বিভিন্ন ধরনের কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং কৌশলগত নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই বিশেষ ড্রোনটি ব্যবহার করে থাকে।




