পাবনায় লিগ্যাল এইড কমিটি ও বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দের সঙ্গে CSO ও আদিবাসী প্রতিনিধিদের মতবিনিময়

পাবনায় লিগ্যাল এইড কমিটি ও বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দের সঙ্গে CSO ও আদিবাসী প্রতিনিধিদের মতবিনিময়

পাবনা প্রতিনিধি: জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি, পাবনার বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (CSO) এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও পাবনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, পাবনার বিজ্ঞ বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ নূরে আলম এবং পাবনার বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। সভায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ) ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সূচনা বক্তব্য প্রদান এবং প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার কামাল আহমেদ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সদস্য সচিব সিনিয়র সিভিল জজ মোঃ আজহারুল ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা, আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জটিলতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মামলা-মোকদ্দমা সংক্রান্ত ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া শ্রীবাস চন্দ্র মুরারী, আটঘরিয়ার সত্য সরকার, ঈশ্বরদীর লিপি বিশ্বাস জমিজমা নিয়ে মামলার সমস্যার কথা তুলে ধরে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে সকল প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তা সভায় অবহিত করেন। তিনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য সহজে ও দ্রুত আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি পাবনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আখতারুজ্জামান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে আইনগত সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতা, সামাজিক অবস্থান, জাতিগত পরিচয় কিংবা অন্য কোনো কারণে যেন কোনো মানুষ আইনগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে আদিবাসী নারী, শিশু ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য সরকারি লিগ্যাল এইড সেবার সুযোগ আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি আইনগত সহায়তার পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জনগণের মধ্যে লিগ্যাল এইড সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং ভুক্তভোগীদের যথাযথ সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মতবিনিময় সভায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার মাধ্যমে আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার ও আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির পথ আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ উঠে আসে। সভায় আদিবাসীদের অজ্ঞতা সহ আদিবাসীদের সহায়তার জন্য বিচার বিভাগের কাছে দাবী জানান, ব্রেডের কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো: আশিকুর রহমান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

মেধা-প্রতিভার স্বীকৃতি পেল কাউখালীর ৫৭ শিক্ষার্থী! কাউখালীতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার ও সনদ বিতরণ

শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করতে পিরোজপুরের কাউখালীতে