
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগকেন্দ্র বানেশ্বরকে পৌরসভা ঘোষণার উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত বানেশ্বর পৌরসভা ঘোষণার বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ পৌরসভা ঘোষণার পক্ষে মতামত দেন।
গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস। এতে বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক দুলাল, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হযরত আলী সরকারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে প্রস্তাবিত পৌরসভার নাগরিক সুবিধা, সীমানা, প্রশাসনিক কাঠামো, করব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলী হোসেন পৌরসভা হলে নাগরিকরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস পৌরসভার সম্ভাব্য বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বানেশ্বর ইউনিয়নের সদর এলাকার পাঁচটি ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে প্রস্তাবিত পৌরসভায় মোট নয়টি ওয়ার্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বানেশ্বর শুধু একটি ইউনিয়ন বা বাজার নয়; এটি পুঠিয়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগকেন্দ্র। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে এখানে আসেন। ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটকে কেন্দ্র করে নিয়মিত বিপুলসংখ্যক কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পৌরসভা হলে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা আরও কার্যকরভাবে পাওয়া যাবে। তবে পৌরসভা গঠনের পর নাগরিকদের ওপর যেন অযৌক্তিক করের বোঝা না পড়ে এবং করের বিপরীতে সেবার মান যেন নিশ্চিত করা হয়—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে রয়েছে বানেশ্বর হাট ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য পরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থাপনা। সম্প্রতি বানেশ্বর কলার হাট এলাকায় আবর্জনা জমে থাকার বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পৌরসভা হলে বানেশ্বরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নতুন পৌরসভা যেন জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয় এবং নাগরিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করে—এটাই তাদের মূল প্রত্যাশা।
বানেশ্বরবাসীর দাবি, পৌরসভা হলে উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার পাশাপাশি হাট-বাজার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক, ড্রেনেজ ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হোক।




