
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কিছু কিছু দুষ্টু মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিএনপিকে যখন এ দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে, বিএনপি তার সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে, আইন সবার জন্য সমান।
তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমরা দেখছি কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা তৈরি করার করছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে বহু মুরুব্বি উপস্থিতি আছেন, যারা এখন অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে ১৯৭১ সালে তাদের কি ভূমিকা ছিল আমরা দেখেছি। সেইসময় তারা যেভাবে অন্যায় করেছিল, মা-বোনদের হয়রানি-নির্যাতন করেছিল আমরা দেখেছি। ১২ তারিখের নির্বাচনে কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করে তারা কিছু আসনে নির্বাচিত হয়েছে। যেভাবে ৭১ সালে মা-বোনদের ওপর তারা নির্যাতন করেছিল, ঠিক একইভাবে আবারও তাদের নারী নির্যাতন শুরু হয়েছে। এই গুপ্ত বাহিনীর সদস্যরা কিভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন করছে আমরা তা দেখছি। শুধু নির্যাতন করেই তারা ক্ষান্ত হননি, তদন্তাধীন বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। একটি মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছেন তারা।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখলাম সেই গুপ্ত দলের নেতারা খুব নছিহত করছে আমাদের। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কিভাবে নারী নির্যাতন করছে, কিভাবে কী করছে সেটি আগে সামাল দেন। তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।
তারেক রহমান বলেন, বহু বছর পর নানা বাড়িতে আসলাম। প্রথম আমি এখানে আসছিলাম ১৯৮৪ সালে সম্ভবত, তারপর ১৯৯১ সালে আপনাদের মেয়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে যখন নির্বাচিত করেছিলেন। তখন নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন এ রাস্তা ছিল না। কাজ করতে হবে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। কাজ করতে হবে নানাবাড়ি মানুষের জন্য। সেই কাজের অংশ হিসেবে আজ মুহুরী-কহুয়া নদীর পুনঃখনন কাজ শুরু করেছি। কেন আমরা এই নদী খনন করছি? বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই-আড়াই বছর আগে বিশাল একটি বন্যা হয়েছিল। এখানকার মানুষসহ নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের লাখ লাখ মানুষের বাড়িঘর ভেসে গিয়েছিল।
নদী-খাল খনন করব নির্বাচনের আগে এ কথাটি আমরা বলেছিলাম। কারণ বিএনপি রাজনীতি করে মানুষের জন্য। খাল খনন করা যে কতটা প্রয়োজন তা বন্যা হোক বা কৃষি জমিতে পানি দেওয়া বা মানুষের পানি ব্যবহারের সুবিধার জন্য হোক বিবিধ কারণে বুঝা যায়। মানুষের জন্য প্রয়োজন বলেই বিএনপি এ কর্মসূচিটি আবার শুরু করেছে। যে কর্মসূচিটি শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার শাসন আমলে।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৩০ বেডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে আপনাদের সন্তান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসেন তখন ২০ বেড বাড়িয়ে সমগ্র বাংলাদেশে ৫০ বেডে করেছিলেন। তাদের রেখে যাওয়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উপজেলা হাসপাতালকে দেড়শ বেডে রূপান্তর করা হবে। উপজেলার মানুষ যেন কষ্ট করে বাইরে যেতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। এখানে বসে সব সুযোগ সুবিধা পাবেন।
আমরা অনেক বছর ধরে মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি। স্বৈরাচার গত ১৭ বছর ধরে মানুষের টুঁটি চেপে ধরে রেখেছিল। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মানুষকে তারা কথা বলতে দেয়নি। মানুষের কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশা তারা দূর করেনি। ২৪ এর ৫ আগস্ট এই দেশের মানুষ সেই স্বৈরাচারকে এদেশ থেকে বিদায় করেছে। এই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দায়িত্ব দিয়েছে।
এর আগে কর্মসূচির শুরুতে ফেনীর উত্তরাঞ্চলে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরশুরামে এই কর্মসূচির পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।





