মৃদু দাবদাহে ঝিনাইদহের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভ্যাপসা গরমে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। বাড়ছে গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। গত সপ্তাহের শুরু থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও রাজশাহী অঞ্চলের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু ও মাঝারি দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে।
যা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার সকাল ৯টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা বিভাগের দু’-এক জায়গায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। একই সাথে খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ আরও ৩ থেকে ৪ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে বহমান মৃদু ও মাঝারি দাবদাহের প্রভাব পড়েছে ঝিনাইদহের জনজীবনে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। ভ্যাপসা গরম ও খরতাপে কাজ করতে পারছেন না শ্রমিকরা। বিশেষ করে বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে শ্রমজীবী মানুষরা নিয়মিত কাজ সময়মতো করতে পারছেন না।
সেই সাথে ভ্যান-রিকশা চালকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। তীব্র তাপের কারণে অধিকাংশ সময় তাদের বসে থাকতে হচ্ছে। প্রখর রোদের কারণে তারা যাত্রীর অভাবে ভাড়া পাচ্ছেন না।
লিটন মিয়া নামে এক শ্রমিক বলেন, গ্রাম থেকে শহরে কাজের জন্য এসে গরমের জন্য কাজ করতে পারছিনা। গত তিন চারদিন রোদের তাপ বেশি। দুপুরে কাজই করা যায় না। বেলা সাড়ে তিনটার পর থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে তখন আবার কাজ করি। এতে করে কাজ শেষ করে গ্রামে ফিরতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়।
মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর বাজারের শরবত বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা আর ঝিনাইদহের তাপমাত্রা প্রায় কাছাকাছি। এতো তাপ আমরা আগে কখনো
দেখিনি। এখন রোদের ভেতরে দূরে তাকানোও যায়না। মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না, শরবত খাবে কখন?
এ ছাড়া তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েছে। ভ্যাপসা গরম ও প্রখর তাপে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত অর্ধশতাধিক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
শামসুন্নাহার নামে এক নারী বলেন, দিনে প্রচণ্ড রোদ। সেই সাথে বিদ্যুতের লোডশেডিং। গরমের কারণে ঘেমে আমার বাচ্চার ঠাণ্ডা লেগে যায়। এখন নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। তবে ডাক্তাররা বলেছেন, বাচ্চা এখন সুস্থের দিকে।
তীব্র রোদ ও গরম থেকে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে ঝিনাইদহ ২৫ শয্যা বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. আলী হাসান ফরিদ জামিল বলেন, এখন সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। সেই সাথে মৃদু ও মাঝারি দাবদাহে শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে। আমরা নিয়মিত এ ধরণের রোগী পাচ্ছি। প্রথমত, প্রত্যেক শিশুকে ভিড় বা জণাকীর্ণ পরিবেশের বাইরে রাখতে হবে। বেশি বেশি নিরাপদ পানি পান করানো ও ছায়াযুক্ত স্বাভাবিক মাত্রার ঠাণ্ডা জায়গায় শিশুদের রাখতে হবে। বয়স্কদের জন্যও একই কাজগুলো করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, দেশে এখন হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। ৯ মাস পূর্ণ বয়সের পর থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা নিতে হবে। অভিভাবকদের এই ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার থেকে ঝিনাইদহের তাপমাত্রা হু হু করে বাড়তে থাকে। গত ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন ২৩ এপ্রিল তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে।
এছাড়া গতকাল শুক্রবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শনিবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।




