প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক। এই দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিন নয়, বরং দীর্ঘ দেড় দশকের দমন-পীড়ন, গুম-খুন, নিপীড়ন ও ভোটাধিকারহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়ের প্রতীক।”
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়কে অর্থবহ করতে হলে ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের দিনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক নতুন সূচনা। এটি এমন একটি দিন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে—জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কোনো স্বৈরাচারই চিরস্থায়ী হতে পারে না। ৫ আগস্ট আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের দিন। দীর্ঘ দেড় দশক দেশের মানুষ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন এবং ভোটাধিকার হরণের মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, তরুণদের আত্মত্যাগ এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়; এটি ছিল ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, আইনজীবী, সাংবাদিক, নারী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। তাই এই বিজয়ও সমগ্র জাতির বিজয়। তিনি বলেন, এই ঐক্যের শক্তিকেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজে লাগাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি জাতির সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। এখানে সংরক্ষিত প্রতিটি আলোকচিত্র, দলিল, স্মারক ও নিদর্শন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাবে কীভাবে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন রাষ্ট্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে। সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, কূটনীতিক, শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


