ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক দুইটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার এবং এক নারী মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে থানাধীন সোনারামপুর এলাকার উজানভাটি হোটেলের সামনে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার চিহ্নিত করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়ির ড্রাইভার ও মালিক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে রয়েছে—
TEACHER’S Whisky ১২ বোতল, JACK DANIEL’S Whisky ১২ বোতল, VAT 69 Whisky ১২ বোতল, Ballantine’s Whisky ০৬ বোতল, Black & White Whisky ২৪ বোতল, CHIVAS Whisky ১২ বোতল, Grant’s Whisky ০৬ বোতল এবং CLAYMORE Whisky ১২ বোতল। সর্বমোট ৯৬ (ছিয়ানব্বই) বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এ সময় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
অপরদিকে, একই দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় পরিচালিত আরেকটি পৃথক অভিযানে এক নারী মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ১,৬০৫ (এক হাজার ছয়শত পাঁচ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামি রুনা বেগম (৪০)। তার স্বামী মৃত রুসেন আলী ভূইয়া, পিতা মৃত উলফত আলী এবং মাতা মৃত ফাতেমা বেগম। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ধজনগর এলাকায়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি মদ ও ইয়াবা ট্যাবলেট আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে থানায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় পৃথক দুইটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “মাদক নির্মূলে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেখানেই মাদক ব্যবসার তথ্য পাওয়া যাবে, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।”
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।




