পদোন্নতির পরও চকরিয়ায় বহাল প্রকৌশলী সৌরভ দাস—এলজিইডি কার্যালয়ে প্রশাসনিক স্থবিরতা, উন্নয়ন কাজে ধীরগতি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাসকে ঘিরে। পদোন্নতি লাভের পরও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্বপদে বহাল থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্র জানায়, পদোন্নতির পর নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর করার কথা থাকলেও তা না করে সৌরভ দাস এখনও একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে নতুনভাবে পদায়ন হওয়া কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নতুন কর্মকর্তার যোগদানেও জটিলতা
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল কালিহাতী উপজেলার প্রকৌশলী আরিফ হোছাইনকে চকরিয়া উপজেলায় পদায়ন করা হয়। তবে প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নিতে পারেননি।
১৩ এপ্রিল কাগজে-কলমে তার যোগদান দেখানো হলেও বাস্তবে এখনো পূর্ণ দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাজকর্মে দ্বৈত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উন্নয়ন কাজে প্রভাব
স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিল প্রক্রিয়াকরণ ও দাপ্তরিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিলম্ব দেখা দিচ্ছে। এতে করে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি তৈরি হয়েছে।
কিছু সচেতন মহলের দাবি, বড় অংকের বিল প্রক্রিয়াকরণে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই দায়িত্ব হস্তান্তরে বিলম্ব করা হচ্ছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাস বলেন,
“আমার পদোন্নতি হয়েছে, তবে এখনো কোথাও পদায়ন করা হয়নি। আরেকজনকে চকরিয়ায় পদায়ন করা হয়েছে—এ বিষয়টিও আমি শুনেছি।
জনমনে প্রশ্ন, দ্রুত সমাধানের দাবি
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও কার্যকর সমাধান চেয়েছেন, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসে।
চকরিয়া এলজিইডি কার্যালয়ের এই প্রশাসনিক জটিলতা দীর্ঘায়িত হলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন