ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্তভাবে পরাজিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই পরাজয় ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়ারি।
বৃহস্পতিবার ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (সিএও) পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাডমিরাল সায়ারি বলেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা, অবিচলতা এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হারবে। তিনি বলেন, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরাজয় ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
সম্প্রতি ‘ডেনা ডেস্ট্রয়ার’ রণতরীর শহীদদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করেন সায়ারি। শহীদদের জানাজায় জনগণের বিপুল উপস্থিতিকে তিনি ‘মহাকাব্যিক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি ভূমধ্যসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর প্রথমবারের মতো উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশনায় সকল নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে কৌশলগত নৌবাহিনীর এই অবস্থান বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। বাব আল-মানদাব প্রণালি ও লোহিত সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় শত্রুরা মৌমাছির মতো গুঞ্জন শুরু করেছিল।
সায়ারি তার বক্তব্যে ভিয়েতনাম ও ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র হত্যাকাণ্ড, অভ্যুত্থান এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের অশুভ লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। তবে ইরানের ক্ষেত্রে তা সফল হবে না বলে তিনি জোর দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ওই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা শহীদ হন। এর জবাবে ইরান অন্তত ৪০ দিন ধরে ১০০টি পর্যায়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অবস্থানগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
অ্যাডমিরাল সায়ারি আরও বলেন, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের উচ্চ সামাজিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারকে জনগণের এই সংহতির প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার আহ্বান জানান তিনি।




