পাগলের আকস্মিক হামলায় ১ জন নিহত, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনাবানের মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২​ জন

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় এক পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় নিহত বেড়ে দুইজনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল ৩০ অক্টোবর মাদ্রাসার বাবুর্চি নিহত হলেও আজ ৩১ অক্টোবর  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনা বান (৭০) নামের আরও এক নারী মারা গেছেন।​
হামলাকারী নাম হলো সেন্টু(৪৩) সে  নাটোর জেলা সদরের এক ডালা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতদিয়া আনজুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি ইল হাসান দাখিল মাদ্রাসার পাকশালায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।​
নিহত বাবুর্চি ফজের আলী (৭০) রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। আর গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া সোনা বান হলো দৌলতদিয়া সিদ্দিক কাজির পাড়ার সাইম উদ্দিন শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,
ঘটনার দিন জুম্মার নামাজের পর আনুমানিক আড়াইটার দিকে মাদ্রাসার হোস্টেলের বাবুর্চি ফজের আলী ছাত্রদের খাবার পরিবেশন করছিলেন। এ সময় হঠাৎ এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর কাছে খাবার চান। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সব খাবার আগেই বণ্টন করা হয়ে যাওয়ায় ফজের আলীর কাছে অতিরিক্ত কোনো খাবার ছিল না। তিনি বিষয়টি বুঝিয়ে বলার আগেই ওই হামলাকারী আকস্মিক রান্নার কাজে ব্যবহৃত চলাখড়ি (কাঠ) দিয়ে ফজের আলীর মাথার পেছনে সজরে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।​এ সময় বয়োবৃদ্ধ বাবুর্চিকে রক্ষার্থে স্থানীয় নারী সোনা বানু এগিয়ে এলে হামলাকারী তাঁকেও এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে ফজের আলীকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সোনা বানুকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তাঁরও মৃত্যু হয়।​ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হামলাকারীকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।​
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, “আটককৃত ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ কি না, তা যাচাই করতে তাকে পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তার নাম পরিচয় পাওয়া গেছে।
 নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।”

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রুহিয়া গিন্নিদেবী আগরওয়াল মহিলা কলেজের সাফল্য

এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর প্রকাশিত ফলাফলে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাসের