কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা সমাধানে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ইন্টিগ্রেটেড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট) প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িুসংলগ্ন প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উখিয়া কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী জি এম মুকতাদিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ায় প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার স্থানীয় বাসিন্দার পাশাপাশি ২৬টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় ১৩ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ফিকাল স্লাজ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হলেও স্থানীয় জনগণের জন্য এখনো কোনো সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ, মাটি ও পানিদূষণ, দুর্গন্ধ, রোগজীবাণুর বিস্তার এবং কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রকল্পের আওতায় কোর্টবাজার, উখিয়া বাজার, কুতুপালং বাজার, হোটেল-মোটেল এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে জৈব ও প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে। জৈব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে কম্পোস্ট ও কো-কম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং প্লাজমা গ্যাসিফিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নেট মিটারিং ব্যবস্থায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উখিয়া কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী জি এম মুকতাদির বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় প্ল্যান্টটি নির্মিত হবে।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উখিয়ার পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে এবং একটি পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।




