যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাট থেকে তার স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হলে শোকার্ত হৃদয়ে তিনি তাদের চিরবিদায় জানান।
কারাবাস চলাকালেই সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তাদের একমাত্র পুত্রসন্তান সেহজাদ হোসেন নাজিফের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। স্বামীকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ না পেয়েই পৃথিবী ছাড়েন মা ও সন্তান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তাদের সংসারে নয় মাস আগে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান সাদ্দাম। বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হয় শিশুটি। কারাগার থেকেই স্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে সন্তানকে কোলে নিতে না পারার গভীর কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারার হতাশাই শেষ পর্যন্ত মা ও শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রিবা বেগম, সরোয়ার শেখসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, হাসি-খুশির একটি পরিবার মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান।
নিহত কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ভাই শুভ হাওলাদার বলেন, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে মৌখিকভাবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি, বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত। সময় স্বল্পতার কারণে পারিবারিক সিদ্ধান্তে মরদেহ কারাগারের গেট পর্যন্ত নেওয়া হয়, সেখানেই শেষ দেখা হয়।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সাদ্দাম যেহেতু যশোর কারাগারে রয়েছেন, প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্ত যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত। বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের এ বিষয়ে করার কিছু নেই।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পাশাপাশি পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।##




