
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের পটভূমি, তাৎপর্য এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সিপাহী-জনতার ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।সকালে শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও আলোচিত অধ্যায়। দেশের এক সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিপাহী-জনতার ঐক্য ও সম্মিলিত ভূমিকা এ দিনকে ইতিহাসে বিশেষ স্থান দিয়েছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
তাঁরা আরও বলেন, একটি দেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক শিক্ষা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খাঁন ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের চেতনাকে ধারণ করে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা তাঁদের বক্তব্যে জাতীয় সংহতির চেতনা সমুন্নত রাখা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান তাঁর বক্তব্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




